ঘোষণা দিয়েই কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের সশস্ত্র মহড়া, আতঙ্কে নগরবাসী
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম ঘোষণা দিয়ে কুমিল্লা নগরীতে সশস্ত্র মহড়া দিয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্রসহ প্রকাশ্যে তাদের এ তৎপরতায় নগরবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দেওয়ার পর শুক্রবার বিকেলে নগরীর সংরাইশ এলাকায় ৩০ থেকে ৪০ জন কিশোরের একটি দল মহড়া দেয়। এ সময় তাদের হাতে দেশীয় অস্ত্র এবং কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোবারক হোসেন জানান, জুমার নামাজের পর স্লোগান দিতে দিতে একদল কিশোর সড়ক দিয়ে হেঁটে যায়। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
গৃহিণী সায়েমা আক্তার বলেন, “তারা মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা অনেকেই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে অবস্থান করি।”
এদিকে, ‘ক্রাইম সেটাপ’ নামে একটি নতুন কিশোর গ্যাংয়ের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গত শুক্রবার বিকেলে ভাটারপুকুর, কাপ্তানবাজার, বৌবাজার হয়ে চানপুর সারোয়ার স্কুল রোড পর্যন্ত এলাকায় ১০০ থেকে ১৫০ জন কিশোর বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ মহড়া দেয়। তাদের হাতে রামদা, চাপাতি ও লাঠিসোটা দেখা যায়। পরিস্থিতি আতঙ্কজনক হয়ে উঠলে অনেক ব্যবসায়ী নির্ধারিত সময়ের আগেই দোকান বন্ধ করে দেন।
গণমাধ্যমকর্মী মাসুক আলতাফ চৌধুরী ও সাদিক হোসেন মামুন জানান, কুমিল্লা নগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন নয়। ২০১৫ সালের দিক থেকেই বিভিন্ন নামে একাধিক গ্যাং গ্রুপ গড়ে ওঠে। রতন, ঈগল, র্যাক্স, এলআরএন, সিবিক, মডার্ন, রকস্টার, ডিস্কো বয়েজসহ অন্তত ২০টি গ্রুপ বিভিন্ন সময় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সহিংসতায় জড়িয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এসব গ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘোষণা দিয়েই শক্তিমত্তা প্রদর্শন করছে, যা উদ্বেগজনক।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, নগরের আলোচিত ‘ঈগল গ্রুপ’ ও ‘রতন গ্রুপ’-এর মধ্যে প্রায়ই সশস্ত্র মহড়া ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “গত সপ্তাহে ১০ জনের বেশি কিশোর গ্যাং সদস্যকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে জামিনে বের হয়ে কেউ কেউ আবারও এমন তৎপরতায় জড়াচ্ছে।”

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা