যে বাড়িতে ছিল হাসি-আনন্দ, সেই উঠানেই এখন চারটি কবর
নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে এক লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো জনপদ। যে বাড়িতে ছিল হাসি-আনন্দ, সেই বাড়ির উঠানেই এখন চারটি কবর। পৈতৃক সম্পত্তির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের চার সদস্যকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় জানাজা শেষে বাড়ির উঠানে পাশাপাশি শায়িত করা হয়েছে নিথর দেহগুলো। মৃত্যুতেও যেন তারা একে অপরের সঙ্গী হয়ে রইলেন।
নিহতরা হলেন- হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা, ৯ বছরের শিশু ছেলে পারভেজ রহমান ও ৩ বছরের মেয়ে সাদিয়া আক্তার।
গত সোমবার দিনগত মধ্যরাতে নিজ ঘরেই এই চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। বুধবার বিকেলে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহগুলো গ্রামে আনা হলে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। স্বজনদের বুকফাটা কান্না আর হাজারো মানুষের দীর্ঘশ্বাসে ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। বাদ আসর জানাজা শেষে বাড়ির উঠানে সারিবদ্ধ চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়। যে ঘরে কয়েকদিন আগেও শিশুদের হাসি-খেলা আর স্বপ্নের আনাগোনা ছিল, সেখানে এখন কেবলই শূন্যতা।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল জানান, হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম এবং দুই ভাগনে শাহিন ও সবুজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন যে, সম্পত্তির বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
এই নৃশংস ঘটনায় নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে নিয়ামতপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনার সাথে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে নিয়ামতপুর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি, সিআইডি এবং পিবিআইয়ের একাধিক টিম কাজ করছে।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ