অবকাঠামো সংস্কার, জনবল সংগ্রহ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীনের সভাপতিত্বে এই বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে ইসি সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বাচন পরিচালনার জন্য গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সচিব এবং সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে আলোচনার মূল বিষয়বস্তু ছিল ভোট কেন্দ্র স্থাপন এবং তার অবকাঠামো সংস্কার। মূলত কলেজ ও স্কুলগুলোতে ভোট কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলেও রাস্তার মানোন্নয়ন করার দরকার যাতে মানুষের যাতায়াত সহজ হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর প্রকৌশল বিভাগকে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
ইসি সচিব জানান, নির্বাচনের দায়িত্ব পালনের জন্য কর্মকর্তাদের প্যানেল প্রস্তুত করা হচ্ছে। এই প্যানেলে এবার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ এবং সরকারি ব্যাংকের কর্মীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ প্রয়োজনীয় জনবল এভাবে তৈরি করা হবে। দুর্গম এলাকায় নির্বাচনি সরঞ্জাম পরিবহণের জন্য হেলিকপ্টার সার্ভিস লাগবে, যার হেলিপ্যাড তৈরি, মেরামত ও চিহ্নিত করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে অনুরোধ করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করতে তফসিল ঘোষণার পর থেকে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটদের পূর্ণমাত্রায় কাজ শুরু করানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা সুষ্ঠুভাবে প্রতিপালন হয়। জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
আখতার আহমেদ বলেন, নির্বাচনি প্রচার-প্রচারণা, জনসচেতনতা ও উদ্বুদ্ধকরণের বিষয়ে প্রধানত তথ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) দায়িত্ব পালন করবে। ইসি সংসদ টেলিভিশন এবং বিটিভি নিউজের ফ্ল্যাশ নিউজ ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা করছে। বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এবং অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য কেন্দ্রভিত্তিক ক্লাস্টার করে মেডিকেল টিম গঠন করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার সঙ্গে যেন সংঘাত না হয়, সেজন্য ফেব্রুয়ারির এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি এবং পবিত্র রোজার সময়ের দিকে দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে। বাজেট প্রসঙ্গে ইসি সাশ্রয়ী হতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বাজেট বরাদ্দ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র থেকে জানাতে অনুরোধ করেছে। যানবাহন অধিগ্রহণ যেন স্বল্প মাত্রায় হয় এবং সরকারি সংস্থার যানবাহন সহযোগিতা যেন নেওয়া হয়।
আখতার আহমেদ আরও বলেন, এবারের নির্বাচনের নতুন সংযোজন হলো পোস্টাল ভোটিং (ডাকযোগে ভোট) ব্যবস্থা। প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশে যারা নির্বাচনি ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সরকারি চাকরিজীবী ও আইনি সেবাদানকারী, তারাও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। ইসি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছে। এছাড়া, গুজব প্রতিরোধ এবং ভুল তথ্য প্রচার বন্ধ করতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রয়োগের মাধ্যমে সচেতনতা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইসি আগামী ১৬ নভেম্বর এই সংক্রান্ত ট্রায়াল অ্যাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবে। এর পাশাপাশি ভুল তথ্য ও প্রচারের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত না করে সঠিক তথ্য প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য একটি সেল গঠন করা হবে।
ইসি সচিব আরও জানান, ঋণ খেলাপী সংক্রান্ত তথ্য সংকলন ও প্রদানের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে অন্তত চার থেকে পাঁচ দিন সময় দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বদলি হবে এবং মাঠ প্রশাসনের যে সমস্ত পরিবর্তন হবে, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব পরিপ্রেক্ষিতে কাজ করছে। পরবর্তীতে যখন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হবে, তখন যেকোনো বদলির বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের অনুমতি নিতে হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক