কুমিল্লায় আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় আলোচিত তুহিন হত্যা মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। গতকাল রোববার (২ নভেম্বর) ভোরে সদর উপজেলার শিমপুর গ্রাম থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার শফিউল আলম মানিক (৪২) বুড়িচং উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি তুহিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বাবুর ছোট ভাই। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ।
ওসি মো. আব্দুল্লাহ জানান, কলেজ শিক্ষার্থী তুহিন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি শফিউল আলম মানিককে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে হাজির করেছে পুলিশ। পরে বিচারক আবিদা সুলতানা মৌলীর আদালতে তুহিন হত্যার ঘটনার বিবরণ দিয়ে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন তিনি। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি মানিক ভিকটিম তুহিনকে নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। তদন্তের স্বার্থে বিষয়টি আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি মানিকের জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে, ঘটনার মূল আসামি বাবু যেন দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য স্থলবন্দর, বিমানবন্দরসহ সব জায়গায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নোটিশ জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, পূর্ববিরোধের জেরে অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে তুহিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টার দিকে পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের কামাল মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে তুহিনকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় তারা।
এরপর প্রধান অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম বাবুর বাড়ির পাশের গোবিন্দপুর গ্রামের একটি ভবনে নিয়ে লোহার রড ও এসএস পাইপ দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তুহিনের দুই হাত-পা ভেঙে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
অভিযুক্তরা তুহিনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত তুহিনকে উদ্ধার করে প্রথমে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে সেদিন রাতেই তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে তিনি সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর মারা যান। নিহত তুহিন কুমিল্লা বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা