দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি ছাত্রশিবিরের
দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। একইসঙ্গে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টের যেকোনো প্রচেষ্টা ছাত্রসমাজ ও জনগণ প্রতিহত করবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
আজ বুধবার (১২ নভেম্বর) দেশের বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে ছাত্রশিবির জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয়। এ সময় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
লিখিত বক্তব্যে জাহিদুল ইসলাম বলেন, কথিত রাজনীতির নামে সামাজিক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার পুরোনো দ্বন্দ্ব আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এই দ্বন্দ্বে কে বিজয়ী হবে তা সময়ই বলে দেবে, তবে দেশের আপামর ছাত্রসমাজকে সঙ্গে নিয়ে ইসলামি মূল্যবোধ ও জুলাই বিপ্লবের আদর্শ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির অঙ্গীকারাবদ্ধ।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবির বলেছে, যেসব রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও ব্যবস্থার মাধ্যমে পূর্ববর্তী সরকার ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠা করেছিল, তার ন্যূনতম সংস্কারও এখনও হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, অনেক গণমাধ্যম নিরপেক্ষতা হারিয়ে শেখ হাসিনার আজ্ঞাবহ প্রচারযন্ত্রে পরিণত হয়েছিল। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী আমাদের প্রত্যাশা ছিল—সব গণমাধ্যম স্বাধীন আচরণ করে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। কিন্তু, দুঃখজনকভাবে গণমাধ্যমের একপেশে আচরণ এখনও যায়নি।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দেড় বছর অতিক্রান্ত হয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনটির নেতারা বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হলেও সেটি অত্যন্ত ধীরগতির। এর কারণ, কিছু সুবিধাভোগী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে কালক্ষেপণ করাচ্ছে।
আরও পড়ুন : যমুনার সামনে অবস্থানের হুঁশিয়ারি, জামায়াতসহ ৮ দলের নতুন কর্মসূচি
আগামীকাল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বিচারের রায়ের দিন ঘোষিত হবে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইতোমধ্যে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে। গত দুই দিনে এই সন্ত্রাসী সংগঠনের দুর্বৃত্তরা ১৫টির অধিক বাস আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছে। নতুন বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ ও অরাজকতার কোনো স্থান নেই।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক সিবগাতুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সাইদুল ইসলামসহ কেন্দ্র ও মহানগর শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)