বিডিআর হত্যাকাণ্ডের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে
বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিশন আজ রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের রিপোর্ট হস্তান্তর করেছে। বিডিআরের সাবেক ডিজি মেজর জেনারেল (অব) আ ল ম ফজলুর রহমান এই কমিশনের প্রধান। এই ঘটনায় দুইটি মামলায় বিডিআর সদস্যদের সাজা হলেও নেপথ্যের নায়করা ধরা ছোয়ার বাইরে ছিলেন। এই রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের চিহ্নিত করতেই এই তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়। প্রধান উপদেষ্টার কাছে রিপোর্ট দাখিলের পর কমিশন তাদের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় তৎকালীন সীমান্তরক্ষী বাহিনী বাংলাদেশ রাইফেলসের (বিডিআর) সদর দপ্তর পিলখানায় বিদ্রোহী জওয়ানদের হামলায় নিহত হন ৫৭ সেনা কর্মকর্তা।
পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদসহ ৫৮ জনের বিরুদ্ধে ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। মইন ইউ আহমেদ পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাপ্রধান ছিলেন।
বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিতে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিভিন্ন মহল দাবি জানিয়ে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে ১৭ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী তার দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করার কথা জানিয়েছিলেন। তবে সোমবার তিনি বলেন, কমিটি নয়, সরকার কমিশন গঠন করেছে।
২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর সাত সদস্যর কমিশিনর গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) এ এল এম ফজলুর রহমান। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানায়, কমিশনের অন্য সদস্যরা হলেন- মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. সাইদুর রহমান, সাবেক যুগ্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, সাবেক উপ–পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) এম আকবর আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরীফুল ইসলাম এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ খান।

নিজস্ব প্রতিবেদক