ডায়ালাইসিসে বাঁচার আশা মায়ের, বাধা চিকিৎসা খরচ
রাজধানীর ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের একটি শীতল কক্ষে বিছানায় শুয়ে আছেন জিলানীর মা। তিনি সিকেডি ৫ স্টেজের রোগী। তার কিডনি পুরোপুরি বিকল হয়ে গেছে। হাসপাতালের নীল আলো, ডায়ালাইসিস মেশিনের আওয়াজ আর অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা পরিবারের মাঝে প্রতিদিনই যেন নতুন যুদ্ধ শুরু হয়।
গত ৪–৫ বছর ধরে কিডনি রোগে ভুগছেন তিনি। যতই চিকিৎসা চলেছে, ততই শরীরের ভেতরে ঘাপটি মেরে থাকা রোগগুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হার্টের সমস্যা—সব মিলিয়ে ক্রমাগত দুশ্চিন্তা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগেরও কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জিলানীর পরিবারের।
চলতি বছরের জুলাইয়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সেই থেকে হাসপাতালে যাওয়া-আসার পালা যেন আর যেন থামছেই না জিলানীর পরিবারের। আগস্টে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় জিলানীর মাকে; তখন খরচ হয় প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা। এরপর ১২ অক্টোবর আবারও হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় তাকে। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা ব্যয় ছয় লাখ ছাড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭–৮ লাখ টাকা।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়—জিলানীর মাকে বাঁচানোর জন্য নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হবে। সপ্তাহে তিন বার ডায়ালাইসিস করাতে হবে। প্রতি মাসে ডায়ালাইসিসসহ আনুসঙ্গিক খরচ হবে প্রায় ৬০ হাজার টাকা। প্রতিবার ডায়ালাইসিসে তিন হাজার টাকা, একটি অ্যালবুমিন ইনজেকশনের দাম ১৩ হাজার টাকা, ডায়ালাইসিসের জন্য ক্যাথেটার কিনতে লাগবে ১০ হাজার টাকা। এখন টাকায় যেন তার বাঁচার একমাত্র পথ।
শুরুতে চিকিৎসা চলছিল পান্থপথের বিআরবি হাসপাতালের ডা. নবিউল হাসান রানার তত্ত্বাবধানে। কিন্তু সেখানে থাকা ব্যয় পরিবারের সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়ায় ১৩ অক্টোবর তাকে স্থানান্তর করা হয় রাজধানীর ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে। এই হাসপাতালে সবচেয়ে কম খরচে কিনডি রোগীদের চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়। এখানে ডা. কায়সারের তত্ত্বাবধানে জিলানীর মায়ের চিকিৎসা চলছে।
হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থাকা মা যখন ক্লান্ত চোখে ছেলের দিকে তাকান, তখন জিলানীর বুকের ভেতর যেন দুমড়ে-মুচড়ে যায়। প্রতিটি ডায়ালাইসিসের পর মায়ের একটু নিঃশ্বাসে জিলানীর মনে শান্তি ফিরে এলেও টাকার চিন্তা ঘুমাতে দেয় না তাকে।
জিলানীর একার পক্ষে মায়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হয়তো কয়েক মুহূর্ত পরেই আবার ডায়ালাইসিসের ডাক আসবে। আবার হাসপাতলের বিলের খরচ। আবার একই চিন্তা—‘বাঁচাতে চাই, কিন্তু বাধা চিকিৎসা খরচ।’
দেশ ও প্রবাসী বাংলাদেশি ভাই-বোনদের কাছে, সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে জিলানী তাই দুই হাত জোড় করে সাহায্যের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছেন। সাহায্য পাঠানোর ঠিকানা :
এম এ কে জিলানী, বিকাশ (পারসোনাল): 01819-234355, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর: 1223201000010938 (ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক)।

আসাদুল ইসলাম দুলাল