সুদানে নিহত সবুজের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম
সুদানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের একটি ঘাঁটিতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর ড্রোন হামলায় ছয় বাংলাদেশি সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় দুপুরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর লন্ড্রি কর্মচারী সবুজ মিয়া। তার মৃত্যুতে গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে শোকের মাতম চলছে।
নিহত সবুজ মিয়া গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি উপজেলার মহদিপুর ইউনিয়নের আমলাগাছি ছোট ভগবানপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমান ও ছকিনা বেগমের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই পরিবার ও স্বজনদের কান্নায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলায় বাবাকে হারান সবুজ। দুই ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন ছোট। বাবার মৃত্যুর পর মা ও বোনকে নিয়ে অভাবের সংসার চালিয়ে আসছিলেন তিনি। প্রায় সাত-আট বছর আগে সবুজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে লন্ড্রি কর্মচারী পদে যোগ দেন। দেড় বছর আগে নাটোর জেলার নূপুর আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
তিন মাস আগে ছুটিতে বাড়ি এসেছিলেন সবুজ মিয়া। ছুটি শেষে তিনি পুনরায় কর্মস্থলে যোগ দেন। দেড় মাস আগে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনের জন্য সুদানে যান তিনি। সেখানেই ড্রোন হামলায় প্রাণ হারান তিনি।
নিহত সবুজের মা ছকিনা বেগম বিলাপ করে বলেন, ‘একটাই ছল হামার, তাকেও মারি ফেললো। তাড়াতাড়ি হামার ছলেক ফেরত চাই।’
স্ত্রী নূপুর আক্তার আর্তনাদ করে বলেন, ‘বিয়ের মাত্র এক বছর আট মাস হলো। এত দ্রুত স্বামীকে হারালাম। আমার জীবনটাই শেষ হয়ে গেল। আমি আমার স্বামীর মরদেহটা ফেরত চাই।’
সবুজ মিয়ার মৃত্যুতে এখন তার মা-স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। শোকাহত মা ও স্ত্রীর একটাই দাবি- দ্রুত শহীদ সবুজ মিয়ার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হোক।

কৃষ্ণ কুমার চাকী, গাইবান্ধা