আমনের বাম্পার ফলন, বাজার দরে হতাশ কৃষক
অনুকূল আবহাওয়া ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকায় উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তবে ফলন ভালো হলেও বাজারে ধানের দাম কম থাকায় কৃষকদের মুখে হাসির বদলে দুশ্চিন্তার রেখা দেখা দিয়েছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক কৃষক লাভের মুখ দেখতে পারছেন না।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বাউফল উপজেলায় ৩৪ হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উফশি জাতের ব্রি ধান-৫১, ৭১, ৭৫, ৮৭ ও ১০৫ এবং ইরি-১১ ও ইরি-২৩ চাষ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের মোটা ধান, লাল মোটা, কালো মোটা ও শাইল ধানেরও আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৯০ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও কৃষি বিভাগের ধারণা, এটি ১ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতি মণ ধান উৎপাদনে খরচ হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা। অথচ বাজারে প্রতি মণ ধান উৎপাদন খরচের চেয়ে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে।
সোমবার (২২ ডিসেম্বর) দক্ষিণাঞ্চলের সর্ববৃহৎ কালাইয়া ধানহাটে গিয়ে দেখা যায়, ইরি ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ১২০ টাকা এবং ব্রি ধান ৯৫০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে স্থানীয় মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
উপজেলার চর কালাইয়া গ্রামের ভূমিহীন কৃষক মো. আলাউদ্দিন মৃধা জানান, তিনি ৮০ কড়া (এক কানি) জমি একসনা (লিজ) নিয়ে ইরি শান্ত জাতের ধান চাষ করেছেন। জমি লিজ, চাষাবাদ, চারা রোপণ, সার, ওষুধ ও মাড়াই বাবদ তার মোট খরচ হয়েছে ৯২ হাজার ৬৪০ টাকা। ওই জমি থেকে পাওয়া ৮৫ মণ ধান ১ হাজার ১০০ টাকা দরে বিক্রি করে তার লাভ হয়েছে মাত্র ৫ হাজার টাকা। তিনি বলেন, এই সামান্য লাভে পরিবারের খোরাকি তো দূরের কথা, মহাজনের ঋণ পরিশোধ করতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে আগামী দিনগুলো কীভাবে চলব, সেই চিন্তায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে।
একই উপজেলার সূর্যমণি গ্রামের কৃষক জয়নাল গাজী বলেন, ২০০ কড়া জমিতে ধান চাষ করে বর্তমান বাজারদরের কারণে লাভের মুখ দেখা যাচ্ছে না। উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের দাম না বাড়ায় তিনি সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
কালাইয়া বন্দর ধান-চাল আড়তদার সমিতির সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম শাহিন বলেন, চলতি সপ্তাহে ধানের দাম কিছুটা কম থাকায় উৎপাদন ব্যয়ের চাপে কৃষকরা বিপাকে পড়েছেন। তবে ফলন ভালো হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন জানান, লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে উৎপাদন অনেক বেশি হয়েছে। কৃষকরা যাতে তাদের কষ্টের ফসলের ন্যায্য মূল্য পান এবং সার-বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হয়, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এম.এ হান্নান, পটুয়াখালী (বাউফল-দুমকি)