এই সরকারের ‘গণভোট’ করার এখতিয়ার নেই : জাসদ
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনে করে, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ‘গণভোট’ আয়োজনের মতো কোনো নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের এখতিয়ার নেই।
আজ বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনকে লেখা এক চিঠিতে এই অবস্থানের কথা জানিয়েছে দলটি। এদিন জাসদের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ছয় দফা দাবি সংবলিত এই চিঠিটি হস্তান্তর করে।
জাসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত রায়হান ও ওবায়দুর রহমান চুন্নু স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত অনুযায়ী এই সরকার শুধুমাত্র ‘নির্বাহী কার্য পরিচালনার’ নিমিত্তে গঠিত। জাসদ মনে করে, গণভোট আয়োজনের বিষয়ে কোনো অধ্যাদেশ জারি করা অসাংবিধানিক। সংবিধানের ৯৪ (১) (খ) ও ১৪২ (ক) (আ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ীও এই প্রক্রিয়া অসাংবিধানিক। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশনের এমন কোনো অসাংবিধানিক কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া সমীচীন হবে না বলেও চিঠিতে মন্তব্য করা হয়।
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, একদিকে এক পক্ষকে ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে হাজার হাজার গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ‘মিথ্যা মামলা’ প্রত্যাহার ছাড়া অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না বলে তারা দাবি করে। এছাড়া জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ নিবন্ধিত বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কার্যালয় ‘মব সন্ত্রাসীদের’ হাত থেকে উদ্ধার করার দাবি জানানো হয়। দলটির মতে, রাজনৈতিক কার্যালয় দখলমুক্ত না করলে এবং নেতাদের ওপর দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার না করলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উপযুক্ত পরিবেশ কখনোই তৈরি হবে না।
জাসদ আরও মনে করে, সংবিধানে ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকায় ধর্মভিত্তিক ও সাম্প্রদায়িক দলগুলোর নিবন্ধন পাওয়া বা নির্বাচন করার কোনো অধিকার নেই। ইসি এক্ষেত্রে সাংবিধানিক নির্দেশনা অনুসরণ করছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে জুলাই-আগস্ট মাসে লুণ্ঠিত সব অস্ত্র উদ্ধার এবং মব সন্ত্রাস দমনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে দলটি।
চিঠিতে বলা হয়, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। উপরন্তু, নির্বাচনের আগে গণহারে অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়।
পরিশেষে জাসদ জানায়, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলাপ-আলোচনা ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচনি আইন সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করেই কেবল জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক