নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৮০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন যারা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের ভোটারপ্রতি ব্যয় ১০ টাকা নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গাজীপুর-২ আসনের ভোটার সংখ্যা আট লাখ চার হাজার ৩৩৩ জন। এটি সর্বোচ্চ ভোটারের সংসদীয় আসন। সে হিসেবে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার ৩৩০ টাকা টাকা ব্যয় করতে পারবেন।
অন্যদিকে ঝালকাঠি-১ আসনে দুই লাখ ২৮ হাজার ৪৩১ জন ভোটার। যা ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন। এখানে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারবেন ২৫ লাখ টাকা। ভোটারপ্রতি এ আসনে প্রার্থীরা ২২ টাকা ৮৪ পয়সা ব্যয় করতে পারবেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঢাকা-১৯ আসনে। এখানে সাত লাখ ৪৭ হাজার ৭০ জন ভোটার। এ আসনে প্রার্থীরা সর্বোচ্চ ব্যয় করতে পারবেন ৭৪ লাখ ৭০ হাজার ৭০০ টাকা।
ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে ভোটার প্রতি ব্যয় ১০ টাকা হলেও ২৫ লাখ টাকার বেশি কেউ ব্যয় করতে পারত না। এবার সে নিয়ম আর রাখা হয়নি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা কিংবা ভোটার প্রতি ১০ টাকা ব্যয় ধরে যেটি বেশি হবে, সে টাকা তারা ব্যয় করতে পারবেন।
নির্বাচনে প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, প্রার্থী ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারবেন অথবা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকার মধ্যে যেটা সবচেয়ে বেশি হবে, সেটা ব্যয় করতে পারবেন।
আরপিও-র অনুচ্ছেদ-৪৪ অনুয়ায়ী প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয় ভোটার প্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া অনুচ্ছেদ ১৩-এ প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দিতে হবে ৫০ হাজার টাকা জামানত, যা আগে ২০ হাজার টাকা ছিল।
ইসির তৈরি আসন ভিত্তিক ভোটার তালিকা থেকে জানা যায়, ২-৩ লাখ ভোটার রয়েছে- এমন নির্বাচনি এলাকা ২০টি। তিন লাখ এক থেকে চার লাখ ভোটার রয়েছে- এমন নির্বাচনি আসন রয়েছে ১০৩টি। চার লাখ এক থেকে পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছে- এমন আসন ১১৪টি। পাঁচ লাখ এক থেকে ছয় লাখ ভোটার রয়েছে- ৫২টি আসনে। ছয় লাখ এক থেকে সাত লাখ ভোটার রয়েছে- সাতটি আসনে। সাত লাখ এক থেকে আট লাখ ভোটার রয়েছে- তিনটি আসন ঢাকা-১৯, গাজীপুর-১ ও নোয়াখালী-৪। আট লাখের বেশি ভোটার রয়েছে- একটি আসন গাজীপুর-২।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একজন প্রার্থী একটি নির্বাচনি আসনে সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারতেন। একজন প্রার্থী প্রতিটি ভোটার-এর জন্য সর্বোচ্চ ১০ টাকা ব্যয় করতে পারতেন। এই দুটি সীমার মধ্যে যেটি কম হবে, সেটিই একজন প্রার্থীর জন্য চূড়ান্ত নির্বাচনি ব্যয়ের সীমা হিসেবে প্রযোজ্য ছিল। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো একই হারে ব্যয়সীমা নির্ধারণ ছিল।
নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (২০০৮) একটি সংসদীয় আসনে একজন প্রার্থীর নির্বাচনি ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ছিল ১০ লাখ টাকা। এই ব্যয়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল সংসদীয় আসনের ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে যেমন দুই লাখ বা তার বেশি ভোটার বিশিষ্ট আসনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ১০ লাখ টাকা আর এক লাখ থেকে দুই লাখ পর্যন্ত ভোটার বিশিষ্ট আসনে সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল সাত লাখ টাকা।

নিজস্ব প্রতিবেদক