জামায়াত আমিরের ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, মাসিক আয় ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা
এমবিবিএস পাস করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ঢাকা-১৫ আসন থেকে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। দাখিল করা হলফনামা থেকে জানা গেছে, শফিকুর রহমানের বয়স ৬৭ বছর। তাঁর বাবার নাম আবরু মিয়া ও মা খাতিবুন্নেচ্ছা। তাঁর রয়েছে ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার; যার মূল্য দেখানো হয়েছে এক লাখ টাকা। জামায়াতের এ নেতা রাজনীতিবিদ হলেও পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন কেবল চিকিৎসক।
হলফনামায় আরও বলা হয়, ডা. শফিকুর রহমানের হাতে রয়েছে নগদ ৬০ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৭ টাকা। পাশাপাশি ১১ দশমিক ৭৭ শতক জমির ওপরে তার নিজের নামে একটি ডুপ্লেক্স বাড়ি রয়েছে, যার মূল্য ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকা। বর্তমানে তার কাছে থাকা সম্পদের আনুমানিক মূল্য এক কোটি ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬৪০ টাকা।
আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম জামায়াত আমিরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার নির্বাচনি হলফনামায় আরও উল্লেখ করেন, তিনি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করেননি। তার নামে ২ একর ১৭ শতক কৃষিজমি আছে, যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৭১ হাজার টাকা। বর্তমানে তার কাছে ৪৭ লাখ ২৫ হাজার ৮৩৪ টাকার সম্পদ আছে। কৃষিখাত থেকে তিনি বছরে তিন লাখ টাকা আয় করেন।
বন্ড ঋণপত্র স্টক এক্সচেঞ্জ তালিকাভুক্ত ও তালিকাভুক্ত নয়- এমন কোম্পানির শেয়ার আছে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৮৮০ টাকার। তার নিজের দুই লাখ টাকার ইলেকট্রিক পণ্য আছে। এছাড়া সাড়ে চার লাখ টাকা মূল্যের যানবাহনসহ দুই লাখ ৪০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমাকৃত অর্থ (যদি একাধিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকে, তবে প্রতিটি অ্যাকাউন্টের নাম, নম্বর এবং ব্যাংকের নাম পৃথক কাগজে উল্লেখ করুন) হিসাবে ৪ লাখ ৯০ হাজার ২৬৩ টাকা দেখিয়েছেন।
জামায়াতের শীর্ষ নেতা হলফনামায় উল্লেখ করেন, ‘আমি একক বা যৌথভাবে বা আমার পিতা, মাতা, স্ত্রী, সন্তান বা আমার ওপর নির্ভরশীল কোনো সদস্য অথবা কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ম্যানেজিং ডিরেক্টর বা ডিরেক্টর হওয়ার সুবাদে আমি কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ গ্রহণ করিনি।’
২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্নে দেখানো সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৪৯ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭৪ টাকা উল্লেখ করেছেন। তার বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা।
হলফনামা দেখা গেছে, জামায়াত আমির মোট ৩৪টি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। দুটি মামলা হাইকোর্ট কর্তৃক স্থগিত আছে। বাকি ৩২টি মামলার সবগুলো থেকে প্রত্যাহার ও খালাস পেয়েছেন। তিনি কখনই ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত হননি বলেও উল্লেখ করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক