নির্বাচনে দুর্নীতি ও পরিবারতন্ত্রকে লাল কার্ড দেখানো হবে : জামায়াত আমির
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আগামী নির্বাচনে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, পরিবারতন্ত্র ও ব্যাংক লুটেরাদের বিরুদ্ধে লাল কার্ড দেখানো হবে। এসব অনিয়ম ও অন্যায়ের রাজনীতিকে আর মেনে নেওয়া হবে না।
আজ শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকার কেরানীগঞ্জে শাক্তা সরকারি স্কুলের মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. নাইদ ইসলাম ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রদান।
বিএনপির উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জুলাইকে ‘না’ বলে একটি দল বেকায়দায় পড়েছিল। শেষে জনগণের ঠেলায় পড়ে ‘হ্যাঁ’ বলতে রাজি হয়েছে। জনগণ ম্যান্ডেট দিয়ে আগামীতে সঠিক নেতৃত্ব বেছে নেবেন ভোটের মাধ্যমে।
জামায়াত আমির বলেন, অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিল তারা খুন, গুম আর রক্তের খেলা খেলেছে। আগামীতে আমরা ক্ষমতায় এলে একটি শান্তির বাংলাদেশ গড়তে চাই সবাইকে নিয়ে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতের পচা রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। শান্তি সুখের বাংলাদেশ গড়তে চাই। অতীতের সরকার ফ্যাসিবাদ উপহার দিয়েছে, একনায়কতন্ত্র উপহার দিয়েছে, দুর্নীতিতে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করেছে। ওই রাজনীতিকে আমরা লাল কার্ড দেখাতে চাই। আমাদের কাছে হিন্দু-মুসলমান, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান সবাই সমান। আমরা তাদের সবার অধিকার নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান অতীতের শাসকদের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশকে ভালোবাসেননি; বরং দীর্ঘ সময় ধরে শোষণ করেছেন। গুম, খুন ও ‘আয়নাঘর’ সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশকে একটি শ্মশানে পরিণত করা হয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে একটি নিরাপদ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী দিনে জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে কেরানীগঞ্জকে একটি মডেল জনপদে রূপান্তর করা হবে। কেরানীগঞ্জকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করে পরিকল্পিত ও আধুনিক নগরায়নের আওতায় আনা হবে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান জামায়াত আমির।
নির্বাচন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগামী ১২ তারিখ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও সুসংহত করতে হবে। তিনি জানান, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি জবাবদিহিমূলক ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তাঁরা এগোচ্ছেন।
জামায়াত আমির বলেন, বিভিন্ন জায়গায় নারীদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, কিছু কিছু জায়গায় মা-বোনদের ওপর হাত তোলা হচ্ছে। আমরা তাদের অতি বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাব, মা-বোন আপনাদেরও রয়েছে। নিজেদের মা-বোনকে সম্মান করুন, তাহলে বাংলার সব মা-বোনকে আপনি সম্মান করতে পারবেন।
১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের পক্ষে ভোট চেয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দাঁড়িপাল্লার মার্কা হচ্ছে স্বাধীনতা রক্ষার মার্কা, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার মার্কা। দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মার্কা।
এর আগে জামায়াতের আমিরের আগমন উপলক্ষে কানায় কানায় ভরে যায় শান্তা উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয় জনসভাস্থল। বিকেল ৪টা ৪৫ মিনিটে মঞ্চে ওঠেন জামায়াত আমির। বিকেল ৫টা ১০ মিনিট থেকে ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত তিনি বক্তব্য দেন। বক্তব্য শেষে ঢাকা জেলার পাঁচটি আসনের প্রার্থীদের হাতে দাঁড়িপাল্লা ও শাপলাকলি প্রতীক তুলে দেন তিনি।
সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হলে ৫ আগস্ট যেভাবে রাজপথে নেমে এসেছি ঐক্যবদ্ধভাবে, আবারও সেভাবে রাজপথে নেমে আসব। নিজেদের গণতন্ত্র নিজেদেরকেই রক্ষা করতে হবে। তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সভাপতি রাশেদ প্রধান বলেন, ১২ তারিখের জন্য সবাই প্রস্তুত হন। জুলাই বিপ্লবে বুলেট যুদ্ধ শেষ হয়েছে, এখন ভোট যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।
ঢাকা জেলা আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জনাসভায় সভাপতিত্ব করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জামাত ইসলামের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির পরিচালক এ টি এম মাসুম। এ ছাড়া বক্তব্য দেন নবাবগঞ্জ ও দোহার উপজেলা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মো. নজরুল ইসলাম, কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন ও সাভার উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত ঢাকা-২ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী কর্নেল আব্দুল হক, কেরানীগঞ্জ ঢাকা-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ শাহিনুর ইসলাম, ঢাকা-১৯ আসনে ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী এনসিপির প্রার্থী দিলশানা পারুল ও ঢাকা জেলার ২০ আসনের এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ প্রমুখ। এ ছাড়া সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের জেনারেল সেক্রেটারি সিবগাতুল্লাহ সিবগা, জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলার সেক্রেটারি মাওলানা আফজল হোসাইন, নায়েবে আমির আব্দুর রঊফসহ অন্যান্যরা।

দেলোয়ার হোসেন, কেরানীগঞ্জ