‘নির্বাচন নিয়ে কেউ সন্ত্রাস চালাতে চাইলে সমান জবাব দিতে হবে’
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নির্বাচন নিয়ে যদি কেউ সন্ত্রাস চালাতে চায় তাহলে প্রশাসনকে অবহিত করে তাদেরকে সমান জবাব দিতে হবে। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শেরপুরে ১১ দলীয় ঐক্যের নির্বাচনি প্রচারণার জন্য আয়োজিত এক জনসভায় যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
শ্রীবরদী উপজেলার জামায়াত সেক্রেটারি রেজাউল নিহতের ঘটনা নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে একজন জামায়াত নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য যারা হত্যা করেছেন তাদের জন্য এটি নতুন নয়। তারা নিজের দলেরই দুই শতাধিক মানুষকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে। যে রাজনীতি মানুষকে নিরাপত্তা দেওয়ার নামে খুন করে, এটা কেমন রাজনীতি? এই হত্যা মামলার কোনো অগ্রগতি নেই বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
নারীদের ‘মা’ সম্বোধন করে জামায়াত আমির বলেন, মায়েদের বিভিন্ন জায়গায় অসম্মানিত করা হচ্ছে। যারা করছেন তারাও মায়ের সন্তান। তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধ আপনারা আপনাদের মা, স্ত্রী, বোনকে সম্মান করতে শিখুন। নিজের পরিবারকে সম্মান করতে জানলে ৯ কোটি মাকে সম্মান করতে পারবেন। যারা নারীদের অসম্মান করে তারা অমানুষ।
শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন নিয়ে কেউ যদি সন্ত্রাস চালাতে চায়, তাহলে তাদের সমান জবাব দেবেন। তবে জবাব দেওয়ার আগে অবশ্যই প্রশাসনকে অবহিত করবেন। যদি দেখেন প্রশাসন প্রতিহত করছেন না, তাহলে আপনার জন্য তা প্রতিহত করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
জামায়াত আমির বলেন, আমরা যুবকদের হাতে বাংলাদেশ তুলে দিতে চাই। বৈষম্য, অন্যায় দুর্নীতি, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে দেশ দাঁড়িয়ে যাবে। সেদিন আমরা যুবকদের বাংলাদেশ নামের উড়োজাহাজের ককপিটে বসিয়ে দেব। আর আমরা গিয়ে প্যাসেঞ্জার সিটে বসব। যুবসমাজকে নিয়েই আগামীর নতুন বাংলাদেশ হবে।
নিজের হ্যাক হওয়া টুইটার অ্যাকাউন্ট নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমার এক্স হ্যান্ডেল হ্যাক করে নারীদের নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্য করা হয়েছে। একটা দল দেখলাম হৈ হৈ রৈ রৈ করে মিছিল শুরু করে দিয়েছে। যারা মায়েদের সম্মান করতে জানে না, তারা মিছিল শুরু করে দিল। বোঝাই যাচ্ছে এটা কারা করেছে। একেবারে ইতর শ্রেণির না হলে এই কাজ কেউ করতে পারে না। সাময়িকভাবে কোনো মা যদি ওদের অপতথ্যের কারণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমি তাদের কাছে ক্ষমা চাই।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের কোনো জেলা সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে বাদ পড়বে না। সারা বাংলাদেশকেই রেলওয়ে যোগাযোগের আওতায় আনা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক