‘পরিচয় বদল’ করে কারাগার থেকে পালালেন আসামি
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারে একজনের পরিবর্তে অন্য হাজতির পরিচয় জালিয়াতির মাধ্যমে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় কারা প্রশাসনে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দায়িত্ব অবহেলার অপরাধে একজন ডেপুটি জেলার ও ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কারা সূত্র জানায়, গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা ৫২ মিনিটে হাজতি দিদার হোসেনের জামিনের কাগজপত্র কারাগারে পৌঁছালে তাকে মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সুযোগে অন্য এক হাজতি, যার নাম হৃদয়, সুকৌশলে নিজেকে দিদার হোসেন বলে পরিচয় দেয়। অভিযোগ উঠেছে, জালিয়াতির মাধ্যমে ‘কেস হিস্ট্রি’ টিকিটে থাকা ছবিও সরিয়ে ফেলা হয়। এমনকি কারাগারের ভেতরে থাকা আরও কয়েকজন হাজতিও হৃদয়কে ‘দিদার’ বলে ভুয়া শনাক্তকরণে সহায়তা করে। কর্তব্যরত কারারক্ষীরা নথিপত্র ও অন্য বন্দিদের সায় পেয়ে যাচাই-বাছাই ছাড়াই হৃদয়কে মুক্ত করে দেন।
ভুয়া দিদার (হৃদয়) মুক্তি পাওয়ার কিছুক্ষণ পর বন্দিদের মধ্যে পারস্পরিক কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হয়। কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হলে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে যে, কয়েকজন বন্দি যোগসাজশ করে প্রতারণার মাধ্যমে হৃদয়কে পালাতে সাহায্য করেছে।
এই ঘটনায় ২৯ জানুয়ারি রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় কারাগারের জেলার মনজুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মূল হোতা হৃদয়, দিদার হোসেনসহ মোট সাতজন নামীয় এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কারাগারের জেল সুপার ওবায়দুর রহমান জানান, নিরাপত্তার এমন গুরুতর ত্রুটির অপরাধে একজন ডেপুটি জেলার ও ছয়জন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্তে ডিআইজি (প্রিজন) শফিক মিয়াকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

শিহাব উদ্দিন বিপু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া