গৃহবধূ থেকে গণতন্ত্রের প্রতীক খালেদা জিয়া
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া৷ তিনি দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের জন্য প্রশংসিত হয়েছেন৷ তার নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ নারীর ক্ষমতায়নে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে৷বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারপারসন ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷খালেদা জিয়া এবং তার দল বিএনপি একসময় বাংলাদেশকে সেনা শাসন থেকে গণতন্ত্রে ফিরিয়ে আনার সংগ্রামের জন্য প্রশংসিত হয়েছিল৷
গৃহিণী থেকে প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ
খালেদা জিয়া ছিলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর পর বিশ্বের কোনো মুসলিম রাষ্ট্রের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী৷ ১৯৮১ সালে তার স্বামী তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হলে রাজনীতিতে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া৷
জিয়াউর রহমান ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি৷
আরও পড়ুন : আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর সংবাদ
রাজনীতিতে কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও সেনা শাসনের বিরুদ্ধে বেসামরিক রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে দ্রুতই বাংলাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনীতিবিদে পরিণত হন খালেদা জিয়া৷ ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে জিয়ার দল ৩০০ আসনের মধ্যে ১৪০টি আসনে জয়লাভ করে এবং খালেদা জিয়া প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন৷
নারীর ক্ষমতায়নে জিয়ার উদ্যোগ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সংস্কারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছেন খালেদা জিয়া৷ বিশেষভাবে তিনি নারীর সাক্ষরতার হার বাড়াতে এবং তাদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হন৷ এজন্য তিনি মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেন এবং বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী পোশাক খাতের বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখেন যেখানে বহু নারীর কর্মসংস্থান হয়েছে৷
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে মেয়েদের স্কুলমুখী করতে বিনামূল্যে শিক্ষার পাশাপাশি শুধু তাদের জন্য আলাদা বৃত্তিরও ব্যবস্থা করে জিয়া সরকার৷ বিদেশি দাতাদের সহায়তায় স্কুলে শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে দুপুরের খাবার সরবরাহের উদ্যোগও নেয়া হয়৷ সব মিলিয়ে তার আমলে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের ভর্তির হার বেড়ে যায়৷
১৯৯৩ সালের ১৭ নভেম্বর মার্কিন পত্রিকা নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশে নারীর ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখায় খালেদা জিয়া প্রশংসিত হন৷
আরও পড়ুন : আপসহীন নক্ষত্রের বিদায়
পাকিস্তানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর নীতির সঙ্গে বৈসাদৃশ্যের বিষয়টি তুলে ধরে পত্রিকাটি লিখেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়া অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে শিক্ষা এবং কারিগরি প্রশিক্ষণকে উৎসাহিত করেছেন, বিশেষ করে মেয়েদের মাঝে৷
নিজের তৃতীয় মেয়াদে ২০০১ এবং ২০০৬ সালের মধ্যে কয়েক বছর মার্কিন ফোর্বস ম্যাগাজিনের বিশ্বের ১০০ ক্ষমতাসীন নারীর তালিকায় স্থান পান খালেদা জিয়া৷ এক সময়ের লাজুক এবং চাপা স্বভাবের গৃহবধূ খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শিক্ষা খাতে বিপ্লব ঘটিয়েছেন, বিশেষ করে নারী শিক্ষায়, লিখেছে পত্রিকাটি।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক