ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত মৌলভীবাজারের জনজীবন
হাওর, পাহাড় আর চা বাগান বেষ্টিত মৌলভীবাজারে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে জেলার নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকালে জেলার শ্রীমঙ্গলে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত কয়েক দিন ধরেই জেলায় তাপমাত্রা ক্রমান্বয়ে কমছে। গতকাল বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) তাপমাত্রা ছিল ১২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আজ ৯.৬ ডিগ্রিতে নেমে আসায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, তীব্র শীত উপেক্ষা করেই ভোরে কাজে বের হতে হচ্ছে বোরো চাষি, চা শ্রমিক ও দিনমজুরদের। পর্যাপ্ত গরম কাপড় না থাকায় খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন রিকশা ও টমটম চালকসহ নির্মাণ শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সারা দিন সূর্যের দেখা মেলেনি, আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। শীত নিবারণে নিম্ন আয়ের মানুষকে ফুটপাতের দোকানগুলোতে ভিড় করতে দেখা গেছে।
শীতের প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন শিশু ও বয়স্ক রোগীদের দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গ্রাম-গঞ্জের প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিছুর রহমান জানান, ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসের কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন বিরাজ করতে পারে।

এস এম উমেদ আলী, মৌলভীবাজার