কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশায় বিপর্যস্ত জনজীবন, তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রিতে
উত্তরের জেলা দিনাজপুরে জানুয়ারির শুরুতেই শীতের দাপট চরম আকার ধারণ করেছে। কনকনে ঠান্ডা, ঘন কুয়াশা আর বাতাসে অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে স্বাভাবিক জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কুয়াশা যেন বৃষ্টির মতো ঝরছে, আর দুপুরে অল্প সময়ের জন্য সূর্যের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা কমছে না।
রোববার (৪ জানুয়ারি) ভোরের আগেই জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ঘন কুয়াশার চাদরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। কুয়াশার সঙ্গে হাড়কাঁপানো ঠান্ডা যুক্ত হয়ে সকাল পর্যন্ত বিরাজ করে। বেলা বাড়ার পর সূর্য উঁকি দিলেও ঠান্ডার অনুভূতি একই রকম থেকে যায়।
এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালকসহ খেটে খাওয়া মানুষরা। ভোরের দিকে কাজে বের হতে না পারায় অনেকেরই দৈনন্দিন রোজগার বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, ফলে বাড়ছে জীবিকার চাপ ও দুর্ভোগ।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১১ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ, যা ঠান্ডার অনুভূতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আরও পড়ুন : ঢাকায় বছরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড
গোয়ালডিহি এলাকার বাসিন্দা আতাউর রহমান বলেন, ‘প্রচণ্ড শীতে ঘর থেকে বেরওয়াই যেন দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। রোদের দেখা মিললেও শীতের তীব্রতা একটুও কমছে না।’
দিনমজুর শাহিনুর জানান, ‘জীবিকার তাগিদে বাধ্য হয়েই বাইরে বের হতে হয়। ঠান্ডা পেটের কথা বোঝে না— কষ্ট যতই থাকুক, কাজ করতেই হয়।’
এ বিষয়ে দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘তিনদিন ধরে দুপুরে সূর্যের দেখা মিললেও শীত কমেনি। বর্তমানে কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাস ও আর্দ্রতার কারণে জনজীবন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)