দিনাজপুরে বইছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ
দিনাজপুরে শীতের দাপট দিন দিন আরও জেঁকে বসছে। জানুয়ারির শুরু থেকেই হিমেল বাতাস আর তীব্র ঠান্ডায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। পৌষের শেষদিকে শুরু হওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহের সঙ্গে ঘন কুয়াশা যুক্ত হয়ে ঠান্ডার অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ফলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি কষ্টে পড়েছে শিশু, বয়স্ক মানুষ ও খেটে খাওয়া দিনমজুররা।
আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ভোরের পর থেকেই দিনাজপুরের বেশিরভাগ এলাকা ঘন কুয়াশা ও হিমশীতল আবহাওয়ার কবলে। কনকনে ঠান্ডার কারণে জরুরি কাজ ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘরের বাইরে বের হয়নি, ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে অচলাবস্থা। সড়ক, হাট ও বাজারগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় মানুষের উপস্থিতি ছিল কম। বিশেষ করে খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলায় শীতের প্রকোপ বেশি থাকায় দিনমজুর ও রিকশাচালকরা কাজে বের হতে না পারায় তাদের দৈনন্দিন আয়-রোজগার ব্যহত হচ্ছে।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, আজ সকাল ৯টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯৪ শতাংশ, ফলে ঠান্ডার তীব্রতা আরও বেড়ে শীত প্রকট হয়।
ভ্যানচালক মো. হুসাইন জানান, তীব্র শীতে ভ্যানচালানো তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কনকনে ঠান্ডায় দীর্ঘ সময় রাস্তায় থাকতে গিয়ে শরীর অসাড় হয়ে আসে, শক্তিও কমে যায়। একই সঙ্গে শীতের কারণে যাত্রী সংকট দেখা দেওয়ায় আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে পরিবারের প্রয়োজন মেটানো নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায়।
দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ মো. তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল রাত থেকে জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈতপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে পাশের ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলায়ও ছড়িয়ে পড়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, এই শৈতপ্রবাহ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং এর প্রভাব বিস্তৃত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)