নীলফামারীতে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট, অধিক দামে বিক্রি
নীলফামারী জেলা সদর ও উপজেলাগুলোতে হঠাৎ করেই এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক শ্রেণির ডিলার ও পরিবেশক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সরকার নির্ধারিত দাম উপেক্ষা করে অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছে।
১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম সরকার নির্ধারিত এক হাজার ৩০৬ টাকা হলেও বাজারে তা এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার আগেই অতিরিক্ত দামে বিক্রি শুরু হলেও দাম কার্যকর হওয়ার পর পরই গ্যাস বাজার থেকে উধাও হয়ে যায়। ফলে সাধারণ ভোক্তা, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
খুচরা বিক্রেতারা জানান, ডিলারদের কাছ থেকে চাহিদা অনুযায়ী সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। অল্প কিছু সিলিন্ডার এলেও তা মুহূর্তেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ক্যাশ মেমো ছাড়াই বেশি দামে সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ইপিজেড শ্রমিক লিপি আক্তার বলেন, গ্যাস সিলিন্ডার না পেয়ে শীতের মধ্যে মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা জরুরি।
উত্তরা ইপিজেড এলাকার ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, বেশিরভাগ কোম্পানির গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, সীমিত সরবরাহেও অতিরিক্ত দাম ও ক্যাশ মেমো বিহীন বিক্রি চলছে। তারা সংশ্লিষ্ট পরিবেশকের কার্যক্রম তদারকির দাবি জানান।
এদিকে এক পরিবেশক প্রতিনিধি দাবি করেছেন, পরিবহণ ব্যয় বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী পর্যায়ে দাম বেশি পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অভিযান চালিয়ে মজুদদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় ও অনিয়ম বন্ধ না করলে এই কৃত্রিম সংকট আরও ভয়াবহ হবে। এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে।
অভিযোগের বিষয়ে মেসার্স বিএস ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ভোলানাথ সরকার বলেন, ‘আমরা সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিরাজগঞ্জ ও খুলনা থেকে গ্যাস সিলিন্ডার সংগ্রহ করে নিজ খরচে নীলফামারীতে নিয়ে আসি। পরিবহণসহ অন্যান্য খরচ বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ী পর্যায়ে প্রতি সিলিন্ডার এক হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি করছি।’
জেলা প্রশাসক মো. নায়িরুজ্জামান বলেন, এখন পর্যন্ত কয়েকটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। যেখানেই দাম অতিরিক্ত নেওয়া হবে সেখানেই শাস্তিমূলক গ্রহণ করা হবে।

ইয়াছিন মোহাম্মদ সিথুন, নীলফামারী