বেড়ার ঐতিহ্যবাহী সবজি খিচুড়ির যুগপূর্তি
পাবনার বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভার দক্ষিণপাড়া মহল্লায় উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী সবজি খিচুড়ি উৎসব। আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) পালিত হয় এই উৎসবের ১২তম বছর। তাই যুগপূর্তি ঐতিহ্যবাহী এই সবজি খিচুড়ির।
এই ঐতিহ্যবাহী সবজি খিচুড়ি উৎসবকে কেন্দ্র করে এলাকায় মেয়ে-জামাইসহ আত্মীয়স্বজনদের ব্যাপক সমাগম ঘটে।
জানা যায়, শীত মৌসুম এলেই জানুয়ারি এই দিনটিতে দক্ষিণপাড়া মহল্লায় প্রতি বছরই এই সবজি খিচুড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়। ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি সময়ে কয়েকজন বন্ধুর উদ্যোগে মাত্র এক হাঁড়ি খিচুড়ি রান্নার মধ্য দিয়ে এই উৎসবের সূচনা হয়। সময়ের ব্যবধানে তা আজ এলাকাবাসীর প্রাণের উৎসবে পরিণত হয়েছে।
চলতি বছর উৎসবে ২৬ হাঁড়ি সবজি খিচুড়ি রান্না করা হয়। যা গত বছরের তুলনায় দুই হাঁড়ি বেশি।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, এবারের উৎসবে প্রায় ছয় মণ চাল, তিন মণ মসুর ডাল এবং শীতকালীন সব ধরনের সবজি মিলে ১৩০ মণ খিচুড়ি প্রস্তুত করা হয়। এই উৎসবে দক্ষিণপাড়াসহ বেড়া পৌর এলাকার দাসপাড়া, কর্মকারপাড়া, স্যানালপাড়া, শেখপাড়া, শাহপাড়া ও হাতিগাড়া মহল্লার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করে।
স্থানীয়রা অনেকেই জানায়, খিচুড়ি উৎসবটি এখন শুধু একটি সামাজিক আয়োজন নয়, বরং এটি এলাকার ঐতিহ্য ও বিনোদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। প্রতি বছর এই উৎসবকে ঘিরে এলাকায় আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দূর-দূরান্তে বসবাসকারী আত্মীয়স্বজনরা এ উপলক্ষে গ্রামে ফিরে আসেন। ফলে এটি আত্মীয়স্বজনের এক বড় মিলনমেলায় রূপ নেয়। বহুদিন পর প্রিয়জনদের সঙ্গে দেখা হওয়ায় সবার মধ্যেই ফিরে আসে পুরোনো স্মৃতি ও আবেগ।
সজবি খিচুড়ি উৎসবে অংশ নিতে ঢাকা থেকে আসা বেড়া পৌর এলাকার দক্ষিণপাড়া মহল্লার বাসিন্দা মো. আশরাফুল ইসলাম ও জুলকার নাঈন বলেন, ‘আমরা প্রতি বছর এই সময়ে খিচুড়ি উৎসবে যোগ দিতে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি। এখানে এসে পুরোনো বন্ধু ও আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা হয়। এই উৎসব আমাদের জন্য মিলনমেলার মতো।’
উৎসবের অন্যতম আয়োজক ফজলুর রহমান বলেন, ‘২০১৫ সালে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে প্রথম এক হাঁড়ি খিচুড়ি রান্না করে এই উৎসব শুরু করি। এরপর থেকে প্রতি বছরই নিয়মিতভাবে এটি আয়োজন করা হচ্ছে। গত বছর ২৪ হাঁড়ি খিচুড়ি রান্না করা হয়েছিল। তবে এ বছর ২৬ হাঁড়ি খিচুড়ি রান্না করা হয়েছে। ধনী-গরিব সবাই এই উৎসবে একসঙ্গে অংশ নেয়। এই উৎসব এখন আত্মীয়স্বজনদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা