বিআরটিসি বাসে উপজেলার নাম না থাকায় স্থানীয়দের ক্ষোভ
ঢাকা থেকে কমলগঞ্জ রুটে বিআরটিসি বাস সার্ভিস চালু হওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস থাকার কথা ছিল, বাস্তবে তার বদলে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ। সম্প্রতি চালুকৃত ‘ঢাকা–শমশেরনগর–শ্রীমঙ্গল’ রুটের একটি বাসের গায়ে উপজেলার নাম উল্লেখ না থাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআরটিসি বাসটি কমলগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করলেও বাসের গায়ে কোথাও ‘কমলগঞ্জ’ নামটি লেখা হয়নি। একটি পূর্ণাঙ্গ ও ঐতিহ্যবাহী উপজেলা হওয়া সত্ত্বেও বাসের গায়ে এর নাম না থাকা কমলগঞ্জবাসীর আত্মসম্মানে আঘাত করেছে বলে মনে করছেন তারা। উপজেলার সাধারণ মানুষের দাবি, এই বিষয়টি তাদের প্রতি চরম অবহেলার পরিচয় দেয়।
ফেসবুকে শুরু হওয়া এই আলোচনার বিপরীতে প্রশংসায় ভাসছেন ভানুগাছ ও আদমপুর থেকে সিলেটগামী দুটি বিআরটিসি বাসের পরিচালনাকারীরা। কারণ ওই বাস দুটিতে স্পষ্টভাবে ‘কমলগঞ্জ টু সিলেট’ লেখা রয়েছে। এই রুটে উপজেলার নাম থাকায় স্থানীয়রা যেমন সন্তোষ প্রকাশ করছেন, ঠিক একইভাবে ঢাকা রুটের বাসেও ‘কমলগঞ্জ টু ঢাকা’ লেখা যুক্ত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ও সদর ইউনিয়নে রয়েছে একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন রিসোর্ট। ঢাকা থেকে নিয়মিত অসংখ্য পর্যটক ও যাত্রী এই এলাকায় যাতায়াত করেন। ভুক্তভোগীদের মতে, এটি শুধু একটি নামের বিষয় নয়, বরং উপজেলার স্বীকৃতি ও মর্যাদার প্রশ্ন। সরাসরি ‘কমলগঞ্জ টু ঢাকা’ রুট স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলে পর্যটন খাতের প্রচার বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের বিভ্রান্তিও কমবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ‘কমলগঞ্জ টু ঢাকা (ভায়া শমশেরনগর, ভানুগাছ, শ্রীমঙ্গল)’ লিখে বাস সার্ভিসটি পরিচালনা করা এখন সময়ের দাবি। এতে যেমন কমলগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে, তেমনি সরকারি পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি’র প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও জনপ্রিয়তা আরও বৃদ্ধি পাবে।
এ বিষয়ে বিআরটিসি বাস পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান হামহাম কর্পোরেশনের সহযোগী ব্যবস্থাপক আবু সালেহ মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ঢাকা থেকে শমশেরনগর রুট উল্লেখ করার কারণ হলো ঢাকা বিমানবন্দর থেকে শমশেরনগর বিমানবন্দরে যাত্রীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি। কমলগঞ্জ নামটি লিখলে অনেক যাত্রী চিনতে পারেন না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি আশ্বাস দেন, বাসের নিচে ও পেছনের অংশে ‘কমলগঞ্জ’ নামটি সংযুক্ত করা হবে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)