ফাল্গুনের আবিরে রাঙা প্রকৃতি, পলাশে ফুটেছে বসন্তের রূপ
ফাল্গুনের আবিরে রাঙা প্রকৃতি জানান দিচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের আগমন। মৃদুমন্দ বাতাস, ডালে ডালে ফুলের উচ্ছ্বাস আর রঙিন আলোছায়ায় চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে প্রাণের স্পন্দন। আর এই বসন্তের সবচেয়ে উজ্জ্বল প্রতীক হিসেবে প্রকৃতিতে ধরা দিয়েছে ‘ফ্লেইম অব দ্য ফরেস্ট’ খ্যাত পলাশ ফুল।
পাতাশূন্য গাছে থোকা থোকা লাল ও উজ্জ্বল কমলা পলাশ যখন ফোটে, তখন মনে হয় যেন বনভূমিতে আগুন লেগেছে। প্রকৃতির বুকজুড়ে এই রঙিন বিস্তার বসন্তের পূর্ণতার ঘোষণা দেয়। প্রকৃতিপ্রেমীদের কাছে পলাশ কেবল একটি ফুল নয়, বরং ঋতু পরিবর্তনের এক জীবন্ত স্মারক। গ্রামাঞ্চল থেকে শুরু করে গহীন বন- যেখানেই পলাশ ফুটে ওঠে, সেখানেই ছড়িয়ে পড়ে নতুনের বার্তা ও সৌন্দর্যের উৎসব।
বসন্তের এই চিরায়ত রূপের এক অনন্য চিত্র দেখা গেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নে। সেখানে সবুজ পাহাড়ঘেরা পরিবেশে একটি সাধারণ টিনের ছাউনির ওপর নুইয়ে পড়া লাল পলাশের সৌন্দর্য যোগ করেছে নতুন মাত্রা। স্থানীয় সাংবাদিক মো. আহাদ মিয়ার কুঁড়েঘরের আঙিনায় ফুটে থাকা এই পলাশ ফুলগুলো এলাকার বসন্তকালীন আবহকে আরও জীবন্ত ও নয়নকাড়া করে তুলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বসন্তে পলাশের এই রূপ প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বসন্তের এই রঙিন আবাহন মানুষকে প্রকৃতির কাছে টেনে আনে এবং মনে জাগিয়ে তোলে নবজীবনের আশা। ফাল্গুনের রাঙা দূত পলাশ তাই প্রতি বছর নতুন করে মনে করিয়ে দেয়- প্রকৃতি কখনও থেমে থাকে না; তার বুকে নবজাগরণের এই ধারা চিরন্তন।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)