কালবৈশাখী ও অতিবৃষ্টিতে কমলগঞ্জে আকস্মিক বন্যা
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড় ও অতিবৃষ্টিজনিত আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। বিশেষ করে কৃষি অধ্যুষিত আদমপুর ইউনিয়নে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল, মাজেরগাঁও ও ছনগাঁও এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যাতায়াতের সড়কগুলো এখন পানির নিচে। বন্যার তোড়ে পাকা ধানের ক্ষেত তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি অনেক স্থানে সড়ক ভেঙে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অসংখ্য বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে মাটির তৈরি ঘরগুলোর অবস্থা সবচেয়ে নাজুক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বোরো চাষের সুবিধার্থে লাউয়াছড়ার ওপর নির্মিত একটি স্লুইস গেট (বাঁধ) সময়মতো খুলে না দেওয়ায় এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বর্ষা মৌসুমে গেটটি ওপরে তুলে রাখার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। ফলে কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পানি স্বাভাবিকভাবে নামতে না পেরে বাঁধ ভেঙে ফসলি জমি ও লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
এ বিষয়ে আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবদাল হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে স্লুইস গেট না তোলা এবং ছড়া খনন না করার কারণেই পাড় ভেঙে এই বন্যা দেখা দিয়েছে। এতে মানুষের জানমালের অনেক ক্ষতি হলো।
কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় উপজেলায় প্রায় ২৭০ হেক্টর ধানি জমি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আহাদ মিয়া, মৌলভীবাজার (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ)