মিয়ানমারে সংঘাত : টেকনাফে গুলিবিদ্ধ সেই শিশুটি মারা যায়নি
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে দেশটির দুটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের জেরে আসা গুলিতে কক্সবাজারের টেকনাফে এক শিশু গুরুতর আহত হয়েছে। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক সংলগ্ন হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত আফনান ওরফে পুতুনি (১২) হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ জসিমের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজি মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
শুরুতে পুলিশের পক্ষ থেকে শিশুটির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লেও দুপুর আড়াইটায় টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, শিশুটি জীবিত আছে তবে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাকে প্রথমে কুতুপালং হাসপাতাল এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
আহত শিশুর বাবা জসিম জানান, তার মেয়ে দোকানে নাস্তা দিতে যাওয়ার সময় হঠাৎ একটি গুলি এসে তার কানে লাগে।
এদিকে ওপারে সংঘাতের জেরে এপারে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করা ৫৩ জনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। টেকনাফ মডেল থানার ওসি (অপারেশন) কামাল হোছাইন জানান, মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ৫২ জন সদস্য এবং একজন বাংলাদেশি জেলেকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
কক্সবাজার বিজিবি রামু সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ৫৩ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং বিজিবি সীমান্তে কঠোর অবস্থানে থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। আটককৃতদের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
শিশু আফনান গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন। পরে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে মিয়ানমারের ভেতরে দুই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সংঘর্ষের কারণে সীমান্ত এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওপার থেকে আসা মুহুর্মুহু গোলাগুলির শব্দে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

নোমান অরুপ, কক্সবাজার (টেকনাফ)