সান্তাহারে ট্রেনের ৯ বগি লাইনচ্যুত : আহত অর্ধশতাধিক যাত্রী
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছে। আজ বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন স্টেশন থেকে জয়পুরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে গিয়ে বাগবাড়ী নামক স্থানে লাইনচ্যুত হয়।
এতে ট্রেনের ছাদে থাকা শতাধিক যাত্রী পড়ে গিয়ে আহত হয়। ট্রেনটিতে হাজারের বেশি যাত্রী ছিল। এই দুর্ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে জয়পুরহাট ও রংপুর বিভাগের রেল যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান হাবিব বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে দুপুরে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি দেয়। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পরই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ট্রেনের ছাদে অনেক মানুষ থাকায় পড়ে গিয়ে অনেকে আহত হয়েছে। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ এখনো শুরু হয়নি।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান বলেন, লাইনে কাজ চলছিল, তবে ট্রেনের ইঞ্জিনে অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় লাল পতাকা দেখতে না পেয়ে চালক ট্রেন চালিয়ে যাওয়ায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
সান্তাহার জংশন স্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন বলেন, লাইনচ্যুত নীলসাগর ট্রেন উদ্ধার করতে পাবনার ঈশ্বরদী ও দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন সান্তাহার বাগবাড়ীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধারকারী ট্রেন দুটি ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওগাঁর ২৫০ শয্যা আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার আবুজার গাফফার বলেন, দুর্ঘটনার পর ৬০ জন পুরুষ মহিলা নওগাঁ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিল। এদের মধ্যে ৪০ জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছে। হাত-পা ভাঙাসহ বিভিন্ন জটিলতায় ২০ পুরুষ-মহিলা যাত্রী এখন পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছে।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ