অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ফিলসন গ্রেপ্তার
অনলাইন জুয়ার এজেন্ট ও সাইবার সুরক্ষা আইনের একাধিক মামলার পলাতক আসামি আক্তারুল ইসলাম ওরফে আখতারুজ্জামান ফিলসনকে (৫৮) গ্রেপ্তার করেছে মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তিনি মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে ধরতে বিভিন্ন স্থানে নজরদারি চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
আজ শুক্রবার (৮ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ডিবি পুলিশের একটি দল কোমরপুর গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
ডিবি পুলিশ জানায়, আখতারুজ্জামান ফিলসনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্ট একটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে গত বছরের ৪ নভেম্বর মেহেরপুরে হওয়া প্রথম সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলার ১২ নম্বর এবং চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি মুজিবনগর থানায় হওয়া দ্বিতীয় সাইবার সুরক্ষা মামলার এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। মামলার পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।
ডিবি পুলিশের দাবি, আন্তর্জাতিক অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে অর্থ পাচার এবং মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে বিপুল অর্থ লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ফিলসন। তিনি বিকাশ, নগদ, রকেট ও উপায়সহ বিভিন্ন ডিজিটাল লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া ফেসবুক ও টেলিগ্রামভিত্তিক বিভিন্ন গোপন গ্রুপ পরিচালনার মাধ্যমে দ্রুত লাভ ও সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণদের অনলাইন জুয়ার দিকে আকৃষ্ট করতেন। অনেকেই এসব প্ল্যাটফর্মে অর্থ বিনিয়োগ করে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ডিবি পুলিশ আরও জানায়, অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক পরিচালনা, আর্থিক প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে ফিলসনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২০(২), ২৪(২) ও ২৭(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের সময় ফিলসনের কাছ থেকে দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। জব্দ করা মোবাইল ফোন দুটি থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডিজিটাল আলামত সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছে ডিবি পুলিশ।
বর্তমানে ফিলসনকে সাইবার সুরক্ষা আইনের দুটি মামলা ও রাজনৈতিক মামলার পলাতক আসামি হিসেবে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

রেজ আন উল বাসার তাপস, মেহেরপুর