‘তুচ্ছ ও কারিগরি কারণে বিপুল মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অযৌক্তিক’
জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেছেন, তুচ্ছ ও কারিগরি ভুলের কারণে বিপুল প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া অযৌক্তিক। এজন্য অকারণে আপিল করতে হয়েছে।
আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানি শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, গতকাল জাতীয় পার্টির ১৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল করেন। এর মধ্যে ১১ জনের আপিল গ্রহণ করেছেন আপিল ট্রাইব্যুনাল। দুজনের আপিল নামঞ্জুর হওয়ায় তারা উচ্চ আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ পর্যন্ত আরও দুজন প্রার্থীর আপিল শুনানি হয়েছে। তারা হলেন—কুমিল্লা-১ আসনের সৈয়দ মোহাম্মদ ইফতেকার আহসান ও বগুড়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জিন্না। এই দুই প্রার্থীর আপিলও গ্রহণ করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, আজ আরও চারটি আপিল শুনানি রয়েছে। আগামীকাল প্রায় ছয় থেকে সাতটি আপিলের শুনানি হবে। আপিল ট্রাইব্যুনাল আইনগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কারিগরি ত্রুটিগুলো সংশোধনের সুযোগ দিচ্ছে, এটি একটি ইতিবাচক দিক। এর ফলে আরও অনেক প্রার্থী নির্বাচনে ফেরার সুযোগ পাচ্ছেন।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, ১২ থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়টি দেশ স্বাভাবিক ছিল না। ওই সময় ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন ঘটনায় সার্বিকভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। অনেক প্রার্থী স্বাভাবিকভাবে মনোনয়নপত্র প্রস্তুত ও জমা দিতে পারেননি। এমনকি কুয়াশার কারণে লঞ্চ দেরি হওয়ায় একজন প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, অতীতে যেসব ছোটখাটো ভুল রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সুযোগ দিতেন। এবার তা করা হয়নি, বরং টেকনিক্যাল গ্রাউন্ডে ব্যাপক হারে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তারা ইতিবাচক বিবেচনাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। মূলত মবের ভয় ও ট্যাগিংয়ের কারণে। কেউ আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিলেই তাকে ‘দোসর’ আখ্যা দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়েছে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় বাধা।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখনও মূলত ঢাকা ও কিছু নির্দিষ্ট এলাকায় কেন্দ্রীভূত। কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হেজিটেট ও ধীরগতির দেখা যাচ্ছে। ব্যাপক সেনা ও পুলিশ মোতায়েন এবং প্রশাসনকে দৃঢ় না করলে মানহীন নির্বাচন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বগুড়া জেলা জাতীয় পার্টির কার্যালয় দখলের অভিযোগ তুলে দলটির মহাসচিব বলেন, নির্বাচনের তফসিল চলাকালে পার্টি অফিস দখল বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা। প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো দখলকারীরা জাতীয় পার্টির কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা জিডি করেছে। এ বিষয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক বিভাজন নিয়ে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, দলটি নানা বিভক্তির মধ্য দিয়ে গেলেও মূল অংশটি জি এম কাদেরের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালী। জাতীয় পার্টি ২৪৪টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিল। এর মধ্যে প্রায় ২০০টির মতো বৈধ হয়েছে। আপিল শেষে আরও ২০–২৫টি আসনে প্রার্থী যুক্ত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সব মিলিয়ে দলটি ২২০ থেকে ২৪০টি আসনে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।
শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, ভোটের মাঠ অত্যন্ত ফ্লুইড। যদি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয় এবং সুষ্ঠু ভোট হয়, তাহলে জাতীয় পার্টি ৪০ থেকে ৭০টি আসনে ভালো ফল করতে পারে। এখনই রাজনৈতিক সমঝোতার সময়। নির্বাচন কমিশন, প্রধান উপদেষ্টা অথবা বড় রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে সব দলকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, নির্বাচনের পর রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক