সরিষা ক্ষেতে ব্যস্ত মৌচাষিরা, কোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিগন্তজোড়া সরিষা ক্ষেত এখন হলদে ফুলে ভরে উঠেছে। আর এই সরিষা ফুলকে কেন্দ্র করে বাণিজ্যিকভাবে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা। সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি মৌসুমে এই উপজেলা থেকে প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতের পাশে সারিবদ্ধভাবে বসানো হয়েছে হাজার হাজার মৌমাছির বাক্স। প্রতিটি বাক্সে প্রায় এক লাখ কর্মী মৌমাছি ও একটি করে রানী মৌমাছি রয়েছে। আট থেকে ১০ দিন অন্তর প্রতিটি বাক্স থেকে গড়ে ২৫ থেকে ৩০ কেজি মধু সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া থেকে আসা মৌচাষি জয়নাল আবেদীন জানান, তিনি ১৫০টি বাক্স নিয়ে উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের বেতুয়ান গ্রামে অবস্থান করছেন। বর্তমানে প্রতি কেজি মধু মাঠ পর্যায়ে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নাটোরের আরেক মৌচাষি কামাল হোসেন বলেন, ভাঙ্গুড়ার সরিষা ক্ষেত বড় হওয়ায় এখানে মধু উৎপাদন ভালো হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে স্বল্প খরচে অধিক লাভ করা সম্ভব।
স্থানীয় ক্রেতা আব্দুল হালিম ও সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরাসরি মাঠ থেকে সংগ্রহ করা এই মধু অত্যন্ত খাঁটি ও মানসম্মত হওয়ায় প্রতি বছরই তারা এখান থেকে মধু সংগ্রহ করেন।
ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন জাহান জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ছয় হাজার ৬৩০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। গত বছর ৩০ মেট্রিক টন মধু উৎপাদন হলেও এবার সেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারিভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মৌচাষে আগ্রহ বাড়ানো গেলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং তারা সহজেই স্বাবলম্বী হতে পারবেন। এবার প্রায় কোটি টাকার মধু উৎপাদনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

আপন ইসলাম, পাবনা (চাটমোহর-ভাঙ্গুরা)