‘সুপার গ্রিন’ লাউয়ে বাজিমাত, ৫০ হাজার খরচে ৪ লাখ আয়ের স্বপ্ন
শীতের সকালে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বাশুলী গ্রামের মাঠ এখন সবুজে ঘেরা। মাঠজুড়ে সারি সারি মাচায় ঝুলছে চকচকে সবুজ লাউ। আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে ‘সুপার গ্রিন’ জাতের লাউ চাষ করে এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছেন কৃষক আমিনুল ইসলাম। মাত্র কয়েক মাসের পরিশ্রমে তিনি এখন সাফল্যের নতুন পথ দেখাচ্ছেন উপজেলার অন্য কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের আধুনিক ও জৈব পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে উৎসাহিত করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে বাশুলী গ্রামে ২০ শতক জমিতে একটি প্রদর্শনী প্লট স্থাপন করা হয়। কৃষি অফিসের পরামর্শে আমিনুল ইসলাম তার মোট ১০০ শতক জমিতে উচ্চ ফলনশীল ‘সুপার গ্রিন’ জাতের লাউ চাষ শুরু করেন।
চাষাবাদে ব্যয়ের হিসাব জানিয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, বীজ, মাচা তৈরি, জৈব সার ও শ্রমিক খরচ মিলিয়ে আমার মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। শুরুতে কিছুটা দুশ্চিন্তা থাকলেও ফলন আসার পর সব শঙ্কা কেটে গেছে। ইতোমধ্যে আমি ১ লাখ ৭০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। মাঠে যে পরিমাণ ফলন এখনও আছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আরও ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছি।
আমিনুল ইসলাম আরও জানান, রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার এবং পরিবেশবান্ধব বালাই দমন পদ্ধতি ব্যবহার করায় লাউয়ের মান ও আকার খুব ভালো হয়েছে। বাজারে এই জাতের লাউয়ের চাহিদা ব্যাপক, এমনকি অনেক পাইকার সরাসরি জমি থেকেই লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
খানসামা উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, সুপার গ্রিন জাতের লাউ মূলত উচ্চ ফলনশীল এবং এতে রোগবালাইয়ের উপদ্রব তুলনামূলক কম। তিনি বলেন, টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা কৃষকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত সবজি উৎপাদনের কৌশল শেখাচ্ছি। আমিনুলের মতো কৃষকরা সঠিক পরিকল্পনা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অল্প জমিতেই স্বাবলম্বী হওয়ার উদাহরণ তৈরি করছেন।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)