হাসপাতালে গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে ২ আনসার কারাগারে
হাসপাতালের সামনে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূকে ভেতরে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে দুই আনসার সদস্যকে আদালত কারাগারে পাঠিয়েছেন। গতকাল সোমবার রাতে ভুক্তভোগী গৃহবধূর মা বাদী হয়ে ওই দুই আনসার সদস্যের বিরুদ্ধে সদর থানায় মামলা করেন।
সদর থানার সেই মামলায় দুই আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করে আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫টা আদালতে হাজির করা হয়। আদালতের বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যে হলেন কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার আওতিয়াপাড়া গ্রামের আবু সাঈদ (২৫) এবং টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলার ফলদা পূর্বপাড়া গ্রামের শাহাদাত হোসেন (২৯)। মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে তাঁদের নিয়োগ দিয়েছিল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ দিকে ঘটনার পর পরই দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানিকগঞ্জ জেলা কমান্ড্যান্ট মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ও অমানবিক। কোনো ব্যক্তির অপরাধের দায় বাহিনী নেবে না।’
মো. কামরুজ্জামান জানান, বিষয়টি তদন্তে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে নৃশংস ঘটনাটি
পুলিশ, ভুক্তভোগীর পরিবার এবং হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার বিকেল ৩টার দিকে নারায়ণগঞ্জ থেকে স্বামীর ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নানার বাড়িতে বেড়াতে যাচ্ছিলেন ওই গৃহবধূ। রাত ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে ভ্যানের ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। নিরাপত্তার কথা ভেবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা জেলা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে একটি গাছের নিচে আশ্রয় নেন। এ সময় হাসপাতালের দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য শাহাদাত হোসেন ও আবু সাঈদ নিরাপত্তার কথা বলে তাদের হাসপাতালের আটতলা নতুন ভবনের নিচতলায় নিয়ে যান। পরে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভবনের দ্বিতীয় তলায় গৃহবধূকে নিয়ে গিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়।
এরপর পরিস্থিতি বুঝতে পেরে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা এগিয়ে এসে পুলিশকে অবহিত করে, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই আনসার সদস্যকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ভুক্তভোগী মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’
এ বিষয়ে সদর থানার পরিদর্শক মিনহাজ উদ্দিন বলেন, আজ বিকেল ৫টার দিকে আসামিদের মানিকগঞ্জ জুডিশিয়াল আদালত-১ এ হাজির করা হয়। সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মু. হাবিবুর রহমান ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সজীব চৌধুরীর উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
পরিদর্শক মিনহাজ উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী গৃহবধূকে ২২ ধারায় জবানবন্দির জন্য আদালতে পাঠানো হবে।

আহমেদ সাব্বির সোহেল, মানিকগঞ্জ