দিনাজপুরে দুই দিনে নতুন আলুর দাম বেড়েছে ১০-২৫ টাকা
দিনাজপুরে হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই তার উত্তাপ লেগেছে আলুর বাজারে। গত কয়েক দিনের ব্যবধানে জেলায় নতুন আলুর দাম আকাশচুম্বী হয়ে ওঠায় বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। ফলে নতুন আলুর বদলে মানুষ এখন বাধ্য হয়ে ১২ টাকা কেজির পুরাতন আলুর দিকে ঝুঁকছেন।
বাজারের বর্তমান চিত্র
দিনাজপুরের খুচরা বাজারে গত দুই দিনের ব্যবধানে নতুন আলুর দাম কেজিতে ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে বাজারে স্টারিস-৭ জাতের আলু ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা দুই দিন আগেও ছিল মাত্র ১৫ টাকা। দেশি গোল আলু ৩৫ থেকে ৪৫ টাকা এবং সাদা চল্লিশা ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবচেয়ে প্রতিকূল অবস্থা পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে; সেখানে জাতভেদে নতুন আলু ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। অথচ এই একই সময়ে পুরাতন আলুর দাম অপরিবর্তিত থেকে মাত্র ১২ টাকা কেজিতে স্থির রয়েছে।
দাম বাড়ার কারণ
বাজার বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দাম বাড়ার তিনটি প্রধান কারণ—
শৈত্যপ্রবাহ ও শ্রমিক সংকট : দিনাজপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, জেলায় টানা সাত দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ চলছে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় শ্রমিকরা ক্ষেতে নামতে না পারায় আগাম জাতের আলু উত্তোলনে ভাটা পড়েছে।
সরবরাহ ঘাটতি : উত্তোলিত আলুর একটি বড় অংশ সরাসরি ট্রাকে করে ঢাকায় চলে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় বাজারে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে।
হাতবদল : কৃষকদের অভিযোগ, তারা ক্ষেত থেকে সর্বোচ্চ ২০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করলেও খুচরা বাজারে তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। মাঝপথে হাতবদলই দাম বাড়ার মূল কারণ।
ক্রেতা ও বিক্রেতারারা বলছে, নতুন আলুর দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়ায় মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত ক্রেতাদের একমাত্র ভরসা এখন ১২ টাকা কেজির পুরাতন আলু।
শহরের বাহাদুর বাজারে আসা ক্রেতা হুছেন আলী বলেন, নতুন আলুর যে দাম, তাতে না কিনে ৬০ টাকা দিয়ে পাঁচ কেজি পুরাতন আলু নিলাম। এতে অন্তত কয়দিন চলা যাবে।
পাইকারি ব্যবসায়ী আজগার আলী বলেন, সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকানই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। বড় ব্যবসায়ীরা যা সংগ্রহ করছেন, তা ঢাকার চাহিদা মেটাতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটাতে পুরাতন আলুর ওপরই চাপ বাড়ছে।

ফারুক হোসেন, দিনাজপুর