নওগাঁয় বৈষম্যবিরোধী কমিটির ১০ সদস্যের পদত্যাগ
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নওগাঁ জেলা কমিটি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। কমিটির গঠন প্রক্রিয়া ও কার্যক্রমে স্বচ্ছতার অভাব এবং আন্দোলনের মূল চেতনার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলে সংগঠক ও জুলাই বিপ্লবে আহত যোদ্ধাসহ মোট ১০ জন সদস্য একযোগে পদত্যাগ করেছেন। গতকাল শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জেলা আহ্বায়কের কাছে তারা এই লিখিত গণপদত্যাগপত্র জমা দেন।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন—কমিটির সংগঠক শিহাব হোসেন, সদস্য ও জুলাই আহত যোদ্ধা সালমান, সদস্য সাদমান সাকিব সাদাফ, আহনাফ হোসেন, ইফাত রাব্বী, সাদ্দাম হোসেন, ইলিয়াস হোসেন, গোলাম রাব্বী, এমরান হোসেন এবং অমিত হোসেন নিরব। এর আগে সাংগঠনিক অস্বচ্ছতার অভিযোগ এনে কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব শাফিক মোয়ামমার রিয়ানও পদত্যাগ করেছিলেন।
পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান কমিটি গঠনের শুরু থেকেই নানাবিধ বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম আন্দোলনের নৈতিক অবস্থান এবং ছাত্রসমাজের স্বার্থের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
জুলাই বিপ্লবে আহত যোদ্ধা সালমান বলেন, ‘আমরা রাজপথে লাঠি-গুলি মোকাবিলা করেছি। কিন্তু এখন দেখছি সংগ্রামের ফসল ভোগ করছে সুবিধাবাদীরা। যারা কখনো সামনে দাঁড়ায়নি, তারা এখন মঞ্চ দখল করছে।’
সংগঠক শিহাব হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘এই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের (এনসিপি) পদবঞ্চিত নেতারা রয়েছেন। আমরা রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত কমিটি আশা করেছিলাম, কিন্তু এই কমিটি আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।’
নওগাঁ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘পদত্যাগপত্রটি পাওয়ার পর আমরা সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছি। আমাদের ধারণা, একজনের স্বাক্ষর ছাড়া বাকিদের স্বাক্ষর জালিয়াতি করা হয়েছে। কমিটিতে এনসিপির কেউ নেই; সদস্য সচিব রাফি আগেই দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। একটি পক্ষ শুরু থেকেই কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।’
গত ২৯ ডিসেম্বর ২০৬ সদস্যবিশিষ্ট এই জেলা আহ্বায়ক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিল কেন্দ্রীয় কমিটি।

আসাদুর রহমান জয়, নওগাঁ