কৃষক হত্যা মামলায় ১০ জনের যাবজ্জীবন
সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে কৃষক বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় ১০ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও তিন মাসের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক লায়লা শারমিন এই আদেশ দেন।
আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) শামসুজ্জোহা শাহান শাহ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকি চার আসামি পলাতক।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মনির হোসেন, আনোয়ারা বেগম, সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মণ্ডল, শফিকুল ইসলাম. আবু সাঈদ, এরশাদ শেখ, রমজান আলী ও আবুল কালাম আজাদ।
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, কামারখন্দ উপজেলার ময়নাকান্দি গ্রামে বদিউজ্জামান নিজ গ্রামের দবির মণ্ডলের ছেলে আলমের কাছে থেকে ২০১১ সালে তিন শতক জমি দলিল মূলে কিনেন। ওই জমিতে প্রতিবেশী আবু সাঈদ বাড়ি করে দখল করে নেন। জমি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেন। তিনি জমি দখলে নেওয়ার চেষ্টা করলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।
এরপর বদিউজ্জামান ও আসামি আব্দুস ছাত্তার ইউনিয়ন পরিষদে মেম্বার পদে নির্বাচন করেন। নির্বাচনে আব্দুস সাত্তার পরাজিত হন। পরাজয়ের জন্য তিনি বদিউজ্জামানকে দায়ী করেন। জমি সংক্রান্ত ও ইউপি নির্বাচন নিয়ে উভয়ের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। ২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেননি। পরের দিন ২৫ জুন সকালে ময়নাকান্দি সাইফুল ইসলামের ঘুমচিক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত বদিউজ্জামানের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখ করে কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। মামলা তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ১৯ জানুয়ারি ১০ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেয় পুলিশ। আজ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

শরীফুল ইসলাম ইন্না, সিরাজগঞ্জ