রাজশাহী বিভাগে মোতায়েন করা হবে ৪ হাজার বিজিবি সদস্য
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী বিভাগের সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অপরাধ দমন ও সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়ানো হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। একইসঙ্গে সীমান্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।
আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে রাজশাহী পোস্টাল একাডেমির সামনে রাজশাহী–নওগাঁ মহাসড়কের পাশে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন বিজিবির রাজশাহী ব্যাটালিয়নের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।
কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজশাহী সেক্টরের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিজিবি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
বিজিবির সেক্টর কমান্ডার জানান, রাজশাহী সেক্টরের আওতাধীন রাজশাহী বিভাগের সাতটি জেলা (জয়পুরহাট ব্যতীত), ৬২টি উপজেলা এবং একটি সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ৩৭টি সংসদীয় আসনে মোট ৬৫টি বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসব ক্যাম্পে প্রায় ১৪৬ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া সীমান্তের বর্ডার আউট পোস্টে (বিওপি) প্রতিটিতে ১০ জন করে সদস্য রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে রাজশাহী সেক্টরে চার হাজারেরও বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কর্নেল কামাল হোসেন আরও বলেন, সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দুটি আধুনিক এপিসিসহ এক প্লাটুন বিজিবি কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে। এছাড়া রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় সাতটি ডগসহ (ক-৯ ইউনিট) এক প্লাটুন মোতায়েন থাকবে।
ভারতীয় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ড্রোন, নাইট ভিশন ডিভাইস, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে ১৫টির বেশি স্পিডবোট ও ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফট দিয়ে দিন-রাত নৌ টহল চালানো হবে। একই সঙ্গে শতাধিক স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বিত টহল ও পতাকা বৈঠক চলছে। বিএসএফও তাদের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন।
এ সময় বিজিবি রাজশাহী ব্যাটালিয়নের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আবু সাঈদ রনি, রাজশাহী (সদর-গোদাগাড়ী-পবা)