৬০০ বছরের পুরোনো পাণ্ডুলিপিসহ ৩৮ হাজার বইয়ের প্রদর্শনী
পাবনার অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিতে ৬০০ বছর আগের হাতে লেখা দুর্লভ তালপাতার পাণ্ডুলিপিসহ ৩৮ হাজার বই নিয়ে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী পুস্তক প্রদর্শনী। আজ রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কামরুজ্জামান ফিতা কেটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন।
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও পাবনায় ভাষার মাস শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী এই পুস্তক প্রর্দশনীর মাধ্যমে। লাইব্রেরির তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় এ প্রদর্শনী চলবে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
শত বছরের পুরোনো হাজার হাজার বই, থরে থরে সাজানো শত বছর আগের দৈনিক পত্রিকা, সাময়িকী, বাংলা ইংরেজি, ফরাসি, হিন্দি, উর্দুসহ নানা ভাষার বই। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও সমৃদ্ধ লাইব্রেরি হিসেবে জ্ঞানপিপাসুদের কাছে পরিচিত একটি নাম এই অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরি।
পাবনার সচেতন মানুষের আবেগ অনেকটাই আবর্তিত হয় এই লাইব্রেরিকে ঘিরে। কালের পরিক্রমায় ঐতিহ্যবাহী লাইব্রেরিটির এখন বয়স ১৩৬ বছর। প্রায় ৩৮ হাজার বইয়ে সমৃদ্ধ এই লাইব্রেরি।
এই বই প্রদর্শনী উপলক্ষে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সভা কক্ষে এক সংক্ষিপ্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়। লাইব্রেরির সহসভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা রবিউল ইসলাম রবির সভাপতিত্বে এবং অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক শিবজিত নাগ, এ বি এম ফজলুর রহমান, রাইফেল ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল হান্নান, বনমালি শিল্পকলা কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক ড. মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক সম্পাদক উৎপল মির্জা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষিকা বেগম রোখসানা ডেইজি, জেলা কালচারাল অফিসার মারুফা মঞ্জরী খান সৌমি প্রমুখ।
১৮৯০ সালে পাবনার তাঁতিবন্দের জমিদার বংশের প্রতিষ্ঠাতা উপেন্দ্র নারায়ণ চৌধুরীর বংশধর অন্নদা গোবিন্দ চৌধুরী শহরের আব্দুল হামিদ রোডে ১৩ শতাংশ জমির ওপর এই লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রাথমিক অবস্থায় দুই কক্ষের একটি দালানে কিছু বাংলা, সংস্কৃত আর ফরাসি কিতাব দিয়ে লাইব্রেরিটির যাত্রা শুরু হয়। পর্যায়ক্রমে লাইব্রেরিতে বইয়ের সংগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভবনের কলেবরও বাড়তে থাকে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাবনা ও পাশের অঞ্চলের শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছে এই লাইব্রেরি।
১৭৫৮ সালে প্রকাশিত ‘দ্য সেইন্টস এভারলাস্টিং রেস্ট’ বইটিই লাইব্রেরির সবচেয়ে পুরোনো সংগ্রহ। এ ছাড়া রয়েছে বাংলা সাহিত্য, ফারসি, উর্দু, আরবি, হিন্দি, বুলগেরিয়ান, নরওয়েজিয়ান, ইতালি, রুশ, তুর্কি, চায়না, ইরানি সাহিত্য ও পালি সাহিত্যের নানা বই। এর পাশাপাশি কয়েক হাজার পত্রিকা, জার্নাল, লিটল ম্যাগ লাইব্রেরির সংগ্রহে রয়েছে।
দেশ-বিদেশ থেকে আসা জ্ঞান পিপাসু মানুষদের কাছে আগ্রহের বিষয় অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরির সংগ্রহে থাকা প্রায় ৬০০ বছরের পুরোনো হাতে লেখা বাংলা ও সংস্কৃত পুঁথি আর পাণ্ডুলিপিগুলো। তালপাতা আর কাগজে লেখা এসব পুঁথি ও পাণ্ডুলিপিগুলো সমৃদ্ধ করেছে অন্নদা গোবিন্দ পাবলিক লাইব্রেরিকে
প্রবীণ শিক্ষাবিদ অধ্যাপক কামরুজ্জামান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, এ ধরনের লাইব্রেরি বাংলাদেশের অন্য কোথাও নেই। জ্ঞানপিপসুদের জন্য এটা একটা দর্শনীয় এবং শিক্ষণীয় গ্রন্থাগার হতে পারে। সবার উচিত এই লাইব্রেরি পরিদর্শন করা।
লাইব্রেরির অবৈতনিক মহাসচিব আব্দুল মতীন খান বলেন, এই উপমহাদেশের মধ্যে এই লাইব্রেরি একটি বড় সংগ্রহশালা। সংবাদপত্র, লিটল ম্যাগ, সাময়িকী, সাপ্তাহিক, ৬০০ বছরের পুরোনো তালপাতার পাণ্ডুলিপিসহ রয়েছে শত শত বছরের পুরোনো বই ও পুস্তক।

এ বি এম ফজলুর রহমান, পাবনা