বিএনপির প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় আরও ১৪ নেতা বহিষ্কার
কিশোরগঞ্জ-৫ (নিকলী ও বাজিতপুর) আসনে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর ও নিকলী উপজেলার আরও ১৪ জন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতরা বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হাঁস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের পক্ষে নির্বাচনি কার্যকলাপে জড়িত ছিলেন। ইতোপূর্বে একই অভিযোগে গত ২৬ জানুয়ারি আরও ১৭ জন নেতাকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রিয় কমিটি। এর ফলে এ নিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে এ পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালসহ ৩২ নেতাকে বহিষ্কার করল দলটি। বহিষ্কারের আগে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল বিএনপির কেন্দ্রিয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ছিলেন।
গতকাল ১ ফেব্রুয়ারি রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে তাদেরকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বহিষ্কারের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন নিকলী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মাসুক মিয়া, এখলাসুর রহমান দুলাল, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও নিকলী সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হারুন অল কাইয়ুম, উপজেলা বিএনপির সদস্য বদরুল আলম বাচ্চু, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ, জারইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ইসহাক মেম্বার, বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন বাদল, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নিয়াজ মামনুন রহমান পুটন, মাইজচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জিল্লুর রহমান, গাজিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ভূঁইয়া, হিলচিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবির আলম, মাইজচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও কৈলাগ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।
নিকলী ও বাজিতপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে প্রথমে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। কিন্তু পরে তা পরিবর্তন করে বিএনপির প্রার্থী করা হয় বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে আসা সৈয়দ এহসানুল হুদাকে। মনোনয়নবঞ্চিত হয়ে শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল স্বতন্ত্র প্রার্থী হন।
বহিষ্কার হওয়া বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসেন বাদল তাঁর মন্তব্যে জানান, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল এ আসনে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে গণমানুষের পরীক্ষিত নেতা। বহিষ্কার হওয়ার ঝুঁকি নিয়েই আমরা উনার নির্বাচন করছি। বহিষ্কার হওয়াতে এখন আমরা ভারমুক্ত হয়েই কাজ করে শেখ মজিবুর রহমান ইকবালকে বিজয়ী করে ঘরে ফিরব। শেষ হাসিটা আমরাই হাসব।
গত ২৬ জানুয়ারি বহিষ্কৃতদের মধ্যে রয়েছেন বাজিতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা আমিনুল হক, দিঘীরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শাহরিয়ার শামীম, বলিয়ারদী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ খান, নিকলী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, জারুইতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কামরুল ইসলাম, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পরশ মাহমুদ, দামপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী হোসেন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশীদ, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবু তাহের, সদর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ছাতিরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান মুক্তার, কারপাশা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন, সিংপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ তপু, গুরুই ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান এবং নিকলী উপজেলা বিএনপির ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মনির হোসেন।

মারুফ আহমেদ, কিশোরগঞ্জ