ভোটে যানবাহন রিকুইজিশন কীভাবে, ডিএমপিকে জানাল ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে আইনবিধি মেনে স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হার বা ভাড়ার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে এর মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান অনুসরণের জন্য বলেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
সম্প্রতি ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে কীভাবে যানবাহন রিকুইজিশন করা হবে, ক্ষতিপূরণ কী হারে হবে সে বিষয়ে বিধান তুলে ধরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ১ ফেব্রুয়ারি ডিএমপি থেকে যানবাহন রিকুইজিশন-এর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে চিঠি দেওয়া হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে ইসি সচিবালয় গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিধি-বিধান জানিয়ে দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) অর্ডিন্যান্স-১৯৭৬-এর বিধান অনুযায়ী নির্বাচনে মোবাইল ডিউটি, পেট্রোল ডিউটি, স্ট্রাইকিং রিজার্ভ, নির্বাচনি মালামাল পরিবহণ, ফোর্স পরিবহণসহ বিবিধ কাজে যানবাহন রিকুইজিশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে যানবাহন রিকুইজিশনের বিষয়ে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুচ্ছেদ-৬ এ বলা হয়েছে, সরকার বা তৎকর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তা, কমিশন হতে এতদুদ্দেশ্যে অনুরোধের প্রেক্ষিতে, লিখিত আদেশ দ্বারা, কোনো ভোট কেন্দ্রে বা কেন্দ্র হইতে ব্যালট বাক্স বা অন্যান্য নির্বাচনি দ্রব্য পরিবহণ বা নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো কর্তব্য পালনে নিযুক্ত কোনো কর্মকর্তা বা অন্য কোনো ব্যক্তির যাতায়াতের জন্য প্রয়োজনীয় বা প্রয়োজন হতে পাবে এ ধরনের কোনো যানবাহন বা জলয়ান অধিযাচন করতে পারবেন।
তবে শর্ত থাকে যে, কোনো প্রার্থী বা তাহার নির্বাচনি এজেন্ট কর্তৃক তাহার নির্বাচনসংক্রান্ত কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত কোনো যানবাহন বা জলযান এইরূপে অধিযাচন করা যাবে।
এতে আরও বলা হয়, সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি দফা (১) এর অধীন অধিযাচনকৃত কোনো যানবাহন বা জলযানের দখল গ্রহণ করতে পারবেন এবং এতদুদ্দেশ্যে যুক্তিসংগতভাবে প্রয়োজন মনে করলে পুলিশ বাহিনীসহ অন্য কোনো বাহিনীর সহায়তা গ্রহণ করতে পারবেন। যেক্ষেত্রে দফা (১) এর অধীন কোনো যানবাহন বা জলমান অধিযাচন করা হয়, সেক্ষেত্রে সরকার বা উক্ত যানবাহন বা জলযানের অধিযাচনকারী (দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কর্মকর্তা কর্তৃক স্থানীয়ভাবে প্রচলিত হার বা ভাড়ার ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করে এর মালিককে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, যেক্ষেত্রে এইরূপে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণের পরিমাণে সংক্ষুব্ধ হয়ে কোনো যানবাহন বা জলযানের মালিক, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণের তারিখ হতে ৩০ দিনের মধ্যে, বিষয়টি সরকারের কাছে আবেদন করলে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ সরকারের নিযুক্ত সালিশ কর্তৃক নির্ধারিত হারে দেওয়া হবে।
এ চিঠিতে রিকুইজিশন এর বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশের ১০৩-ক ধারায় যানবাহন রিকুইজিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে, অন্য কোনো আইনে যাই থাকুক না কেন, পুলিশ কমিশনারের লিখিত আদেশবলে যে কোনো যানবাহন ৭ দিনের বেশি নয়– এমন সময়ের জন্য রিকুইজিশন করা যাবে, যদি তা জনস্বার্থে প্রয়োজন পড়ে। আর কোনো যানবাহন রিকুইজিশন করা হলে গাড়ির মালিককে নির্ধারিত পরিমাণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
এসব বিধান মেনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বিবিধ কাজে যানবাহন রিকুইজিশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছে ইসি।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিছুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে বাস প্রায় দুই হাজার ৪০০, ট্রাক ৩০, লেগুনা প্রায় ১১০০ এবং মাইক্রোবাস এক হাজারের বেশি রিকুইজিশন দেওয়া লাগতে পারে। এসব গাড়ি পুলিশসহ মোট নয়টি সংস্থার জন্য রিকুইজিশন করা হচ্ছে। এর মধ্যে সেনাবাহিনী, আনসার, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং টেলিকম খাতের সংস্থাগুলো রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন সংক্রান্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, এবার সংসদ ও গণভোটকে সামনে রেখে ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে নামছে, মোতায়েন থাকবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
পরিপত্রে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট বাহিনী নিজ নিজ সংস্থার যানবাহন ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেবে। প্রয়োজন হলে যথাযথ বিধিবিধান অনুসরণ করে রিকুইজিশন বা ভাড়া করা যানবাহন ব্যবহার করা যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক