কফিলকে নিয়ে হেলিকপ্টারে গ্রামে ফিরলেন প্রবাসী মাকসুদ
দীর্ঘ প্রবাস জীবনে সততা ও নিষ্ঠার বিরল স্বীকৃতি পেলেন সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের মাকসুদ আখঞ্জি। নিজের কর্মস্থল সৌদি আরবের মালিক বা ‘কফিল’ মিশাল আমিয়ামীকে সাথে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে নিজ গ্রামে ফিরেছেন তিনি।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের রামনগর গ্রামের একটি খোলা মাঠে সৌদি নাগরিককে বহনকারী হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে।
প্রবাসী মাকসুদ ও তার সৌদি মালিককে দেখতে সকাল থেকেই রামনগর গ্রামে কয়েকশ উৎসুক মানুষ ভিড় জমান। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর মাকসুদের বাবা শাহ আলম আখঞ্জি ও স্থানীয় এলাকাবাসী ফুল দিয়ে বিদেশি অতিথিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় নিরাপত্তার জন্য তাহিরপুর থানা পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিল।
মাকসুদ আখঞ্জি গত ৫ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মিশাল আমিয়ামীর একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। কাজের প্রতি একাগ্রতা ও সততার কারণে মালিকের সাথে তার পারিবারিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাকসুদ জানান, তার কফিল ভ্রমণপিপাসু মানুষ এবং তিনি প্রায়ই বাংলাদেশে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করতেন। মালিককে সম্মান জানাতেই তিনি ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করে সরাসরি নিজ গ্রামে নিয়ে আসেন। সৌদি এই অতিথি আগামী এক সপ্তাহ মাকসুদের বাড়িতেই অবস্থান করবেন।
বাংলাদেশি আতিথেয়তায় মুগ্ধ হয়ে মিশাল আমিয়ামী বলেন, মাকসুদ অত্যন্ত ভালো ছেলে, সে আমার সব ব্যবসা দেখাশোনা করে। তাকে আমি খুব পছন্দ করি। বাংলাদেশ একটি চমৎকার দেশ। এ সময় তিনি বারবার ‘মাশাল্লাহ’ বলে নিজের ভালো লাগার কথা জানান এবং ভবিষ্যতে মাকসুদের মতো আরও পরিশ্রমী ও বিশ্বস্ত বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দেওয়ান গিয়াস চৌধুরী, সুনামগঞ্জ