সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না : তারেক রহমান
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়, এমন কিছু বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও করছে না এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না।
আজ শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্য এবং পিলখানা হত্যাকাণ্ডে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীকে বরাবরই আমি আমার বৃহত্তর পরিবার মনে করি। এর কারণ হয়ত সেনানিবাসে আমার ও আমার পরিবারের বেড়ে ওঠা। অনেক ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি, তবে বড় হয়ে দেখেছি—সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুমা খালেদা জিয়ারও এক ধরনের নির্ভরতা ছিল। আমার মরহুমা মা সবসময় মনে করতেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলাদেশের অবশ্যই একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা দরকার। সন্তান হিসেবে আমি যেমন আমার পিতাকে নিয়ে গর্ব করি, আমি বিশ্বাস করি, একজন সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকেও তিনি করেছিলেন গর্বিত।
তারেক রহমান আরও বলেন, জনগণ সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে মনে করে। সেনাবাহিনীকে ভিন্ন কাজে সংযুক্ত করা হলে সেনাবাহিনীর মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় বলে আমি মনে করি। বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও গৌরব সম্পর্কে সেনা কর্মকর্তা এবং সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেস করলে হয়ত অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, দেশ ফ্যাসিবাদ আর তাঁবেদারের অপশক্তির কবলে পড়ার পর শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের স্বাধীনতাই ভূলুণ্ঠিত হয়নি, বরং একইসঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের পরও এমন নির্মম হত্যাযজ্ঞের দিনটি খোদ সেনাবাহিনীও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে পারেনি।
তারেক রহমান বলেন, সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে, আমি এ ধরনের কথা বলতে চাই না। বরং গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, গৌরব অর্জনের বিষয়, ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকেই রক্ষা করতে হবে। সেনাবাহিনীকে নিজেদের সম্মান ও মর্যাদা সম্পর্কে নিজেদেরকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে আমি এতটুকু বলতে পারি, জনগণের রায়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই কোনোভাবেই রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয়, এমন কিছু বিএনপি অতীতেও করেনি, বর্তমানেও করছে না এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি।
তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী থাকে, সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকে। সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে, তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত হবে না। রাজনীতির চাদরে পেশাদারিত্ব যেন আচ্ছাদিত না হয়ে যায়, এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীর প্রতিটি কর্মকর্তা ও সদস্যের অত্যন্ত সচেতন থাকা জরুরি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআরের পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের পর পতিত পলাতক বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পরিবর্তন করে দিয়েছিল। এমনকি, তাদের ইউনিফর্ম পর্যন্ত পরিবর্তন করে ফেলা হয়েছে। আমি আপনাদের সামনে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতি শেয়ার করতে চাই, জনগণের রায়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করতে চাই আমরা। ভবিষ্যতে যাতে কখনো এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, সেই লক্ষ্যে সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলোচনা করে বিডিআর পিলখানায় সেনা হত্যাযজ্ঞের দিবসটিকে শহীদ সেনা দিবস অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, পরিশেষে সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ও সদস্যদের একটি দাবি ছিল, ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পে’ নীতি। আমি আপনাদেরকে অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাতে চাই, ইতোমধ্যে আমরা আমাদের দলীয় ইশতেহারে ‘ওয়ান র্যাংক, ওয়ান পে’ অন্তর্ভুক্ত করে নিয়েছি। এটি বাস্তবায়নের ঘোষণা ইতোমধ্যে জাতির সামনে আমরা উপস্থাপন করেছি। ইনশাল্লাহ ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে যত দ্রুত সম্ভব তা বাস্তবায়ন করবো আমরা, ইনশাআল্লাহ।

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক