যশোর-৬ আসনে ভাগ্য নির্ধারণ করবে আ.লীগের ভোট ব্যাংক
আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে যশোর-৬ (কেশবপুর) আসন। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে প্রার্থীরা গ্রাম-গঞ্জ ও হাটবাজারে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। দীর্ঘ সময় পর বড় দলগুলোর অংশগ্রহণে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের আভাস পাওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, লড়াই হবে মূলত বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
কেশবপুর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ২ লাখ ২৬ হাজার ৪২৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ১১৩ হাজার ১৩৪ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ১৩ হাজার ২৮৭জন। এবার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। মো. আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি-ধানের শীষ), অধ্যাপক মো. মোক্তার আলী (জামায়াতে ইসলামী-দাঁড়িপাল্লা), জি এম হাসান (জাতীয় পার্টি-লাঙল), মো. শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন-হাতপাখা) ও মো. মাহমুদ হাসান (এবি পার্টি-ঈগল)
দীর্ঘদিন এই আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে দৃশ্যপট পাল্টে গেছে। অতীতের ১২টি নির্বাচন ও উপ-নির্বাচনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ৭ বার বিজয়ী হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে দলটির কোনো প্রকাশ্য তৎপরতা নেই। ফলে মাঠের মূল শক্তি এখন বিএনপি ও জামায়াত।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও উপজেলা আমির অধ্যাপক মোক্তার আলী জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। তিনি স্থানীয় সমস্যার সমাধানে ১১ দফা ইশতেহার নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। মোক্তার আলী বলেন, ‘আমাদের সাংগঠনিক শক্তি অনেক মজবুত। জনগণ হিংসা-বিদ্বেষমুক্ত নেতৃত্ব চায়।’
অন্যদিকে, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবুল হোসেন আজাদ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন। শুরুতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা অভ্যন্তরীণ কোন্দল থাকলেও তা কাটিয়ে উঠে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন তিনি। আজাদের দাবি, সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপির বিজয় সুনিশ্চিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আওয়ামী লীগের নীরব ভোটারদের হাতে। যেহেতু নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কোনো প্রার্থী নেই, তাই এই বিশাল ‘ভোট ব্যাংক’ যে প্রার্থীর দিকে ঝুঁকবে, তিনিই শেষ পর্যন্ত হাসবেন বিজয়ের হাসি। বিএনপি ও জামায়াত—উভয় পক্ষই এখন এই নীরব ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করছে।
ভোটাররা বলছেন, গত কয়েকটি নির্বাচনে তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারলেও এবার নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, এটাই তাদের বড় পাওয়া।

ইনামুল হাসান, যশোর (মনিরামপুর-কেশবপুর)