ইইউর চোখে নির্বাচনের পরিবেশ খুব ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক
বাংলাদেশের নির্বাচনি পরিবেশ খুব ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ মিশনের (ইইউ ইওএম) প্রধান পর্যবেক্ষক ইভারস ইহাবস।
রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ইভারস ইহাবস এ কথা বলেন। সারা দেশে বিভিন্ন এলাকায় ৯০ জন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আগে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
ইভারস ইহাবস বলেন, ‘আমরা প্রার্থী এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। সাধারণ পরিবেশ খুব ইতিবাচক ও আশাব্যঞ্জক। যাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে, তাদের অধিকাংশই জোর দিয়ে বলেছেন যে এটি বাংলাদেশের ইতিহাস ও গণতন্ত্রে একটি নতুন অধ্যায় হতে যাচ্ছে।’
নির্বাচনের জন্য ইইউ তাদের সবচেয়ে বড় পর্যবেক্ষণ মিশন পাঠিয়েছে বাংলাদেশে। এই দলে আছেন দুই শতাধিক পর্যবেক্ষক। জানুয়ারির শুরু থেকেই অন্তত ৬০ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে কাজ করছেন। এ ছাড়া ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলও ঢাকায় পৌঁছেছে। তাদের মধ্যে নরওয়ে, সুইজারল্যান্ড ও কানাডার পর্যবেক্ষকেরা আছেন।
ইভারস ইহাবস বলেন, ‘আজ আমরা স্বল্পমেয়াদি পর্যবেক্ষকদের সারা দেশে পাঠাচ্ছি। তারা মূলত ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবেন। আমরা এখানে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখার অপেক্ষায় আছি।’
সহিংসতার কোনো ঘটনা নজরে এসেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইইউর প্রধান পর্যবেক্ষক বলেন, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। তবে এখনই এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করবেন না।
আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বলা হবে। আর নির্বাচনের দুই মাস পর চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্যের প্রসঙ্গে ইভারস ইহাবস বলেন, এটি অনেক গণতন্ত্রের জন্যই উদ্বেগের বিষয়। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উল্লেখ করা হবে।
নির্বাচনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে ইভারস আইজাবস বলেন, তারা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনি প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। নারীসহ সব সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাটা খুব জরুরি।
ইভার্স ইজাবস বলেন, মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারী পর্যবেক্ষকেরা ইউরোপের চোখ ও কান হিসেবে কাজ করবেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতেই নির্বাচনপ্রক্রিয়ার একটি নিরপেক্ষ ও তথ্যভিত্তিক মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হবে। ইইউ একটি ভালো, অংশগ্রহণমূলক, বিশ্বাসযোগ্য ও অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে আগ্রহী।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে ইভার্স ইজাবস বলেন, মিশনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা বাহিনী, সেনাবাহিনী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। কিছু এলাকা তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তবে সামগ্রিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে বলে তাঁদের ধারণা।

নিজস্ব প্রতিবেদক