সামনের ‘অনেক’ চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সতর্ক করলেন তারেক রহমান
বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা তারেক রহমান মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বলেছেন, চলতি সপ্তাহের নির্বাচনে জয়ী হলে তাকে ‘অনেক’ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। একইসঙ্গে তিনি ক্ষমতাচ্যুত বিগত সরকারের আমলে ‘লুট’ হওয়া দেশকে মেরামত করার অঙ্গীকার করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, বৃহস্পতিবারের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তার প্রথম অগ্রাধিকার হবে নাগরিকদের নিরাপত্তা পুনর্বহাল করা। ২০২৪ সালে তরুণদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর থেকে দেশে যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ থাকার কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দেশে একটি স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে মানুষ নিরাপদ বোধ করে।’ তবে দক্ষিণ এশিয়ার ১৭ কোটি মানুষের দেশটিতে সামনের কাজগুলো যে অত্যন্ত কঠিন হবে, সে বিষয়েও তিনি সতর্কবার্তা দেন।
ক্ষমতাচ্যুত সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে অবহেলার অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘গত শাসনামলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করা হয়েছে, জ্বালানি খাতকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।’
তারেক রহমানের দল বিএনপি এই নির্বাচনে জয়ের দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে। মৃদুভাষী তারেক রহমান তাঁর কার্যালয়ে বসে এএফপির সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় পেছনে তাঁর প্রয়াত বাবা-মা—বাংলাদেশের জনপ্রিয় সাবেক দুই নেতা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সোনালি ফ্রেমে বাঁধানো ছবি শোভা পাচ্ছিল।
তারেক রহমান তার দলের বড় জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা আশা করি, জনগণের কাছ থেকে একটি বড় ও সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট পাব।’ বর্তমান দলীয় জোটের বাইরে আর কোনো নতুন জোট গঠনের প্রয়োজন দেখছেন না, উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নিজস্ব সরকার গঠনের মতো পর্যাপ্ত আসন আমরা পাব।’
‘আরও ভালো করার চেষ্টা করব’
শেখ হাসিনার শাসনামলে ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরেন ৬০ বছর বয়সী তারেক রহমান। তাঁর ফেরার কয়েক দিন পরই তাঁর মা, তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ৮০ বছর বয়সে মারা গেলে তিনি বিএনপির পূর্ণ নেতৃত্ব গ্রহণ করেন।
নিজের বাবা-মায়ের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘তাঁরা ছিলেন তাঁদের মতো, আমি আমার মতো।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘সারা জীবন আমিও রাজনীতি করেছি। আমি তাঁদের চেয়ে আরও ভালো কাজ করার চেষ্টা করব।’
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, নির্বাচিত হলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা করাই হবে তাঁর প্রধান কাজ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে গুরুতর চ্যালেঞ্জ রয়েছে—আমাদের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে।’ বিপুল সংখ্যক বেকার যুবকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসার সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি নারীদের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
‘প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’
প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন চললেও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারেক রহমান সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমার জনগণের স্বার্থ এবং আমার দেশের স্বার্থই সবার আগে।’ তিনি জানান, বাংলাদেশ তার চারপাশের দেশগুলোর সঙ্গে ‘অন্তত একটি প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক’ চায়।
৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন এবং গত নভেম্বরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন এবং বিশেষ করে, বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প থেকে ব্যাপক চুরির অভিযোগ রয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা যা দেখছি তা হলো, মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি হয়েছে। মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে অনেক ধনী বানানো হয়েছে, কিন্তু বাকি দেশ ও সাধারণ মানুষের জন্য কিছুই রাখা হয়নি।’
তবে রাজনৈতিক দলকে আইন করে নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে নিজের অবস্থান জানান তারেক রহমান। নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা থেকে বিরত রেখেছে। এ বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘অবশ্যই, যদি কেউ কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইন অনুযায়ী তার শাস্তি হওয়া প্রয়োজন।’

এনটিভি অনলাইন ডেস্ক