ভোটারদের চাওয়া, নির্বাচন হোক উৎসবমুখর
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দেড় বছর কেটে গেল। এ সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ছিল অস্থিরতায় ভরা। আইনশঙ্খলা পরিস্থিতিও ছিল নাজুক। নানামুখী শঙ্কায় দিন কেটেছে দেশের মানুষের। ফেব্রুয়ারিতে ভোট হচ্ছে না, এমন মনোভাব ছিল সবচেয়ে উচ্চারিত। তফসিলের ঘোষণার পরও অনেকের সংশয় ছিল, ‘শেষ পর্যন্ত ভোট হবে তো?’ সব শঙ্কা কাটিয়ে অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল কাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ ভোটে শঙ্কার পাশাপাশি রয়েছে সুন্দর রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা। সেজন্য ভোট দিতে মুখিয়ে আছেন ভোটাররা।
সে কথাই বলছিলেন ঢাকা-১৫ আসনের ভোটার মাহির আহমেদ। তিনি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ৫ আগস্টের পর বারবার মনে হতো, এই বুঝি আবার সব উলটপালট হয়ে গেল। ফেসবুক-ইউটিউবে ঢুকলেই এ ধরনের পোস্ট কিংবা ভিডিও দেখা যেত। ফেসবুকের বাইরেও অনেকে এ শঙ্কার কথা জানাতেন। আওয়ামী লীগ অনেক শক্তিশালী ছিল। শেখ হাসিনা ছিল আরও ভয়ংকর। যেকোনো সময় দেশে গ্যাঞ্জাম লাগিয়ে দিতে পারেন, এমন চিন্তা থেকে শঙ্কা প্রকাশ করতেন অনেকে।
এনটিভি অনলাইন রাজধানীর অন্তত ৮০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বলেছে। তাদের মধ্যে অনেকে মাহিরের সুরে কথা বলেছেন। ঢাকা-১২ আসনের ভোটার নাজমুল হোসেন গতকাল বুধবার বলেন, ভোট না হতে হতে হয়ে যাচ্ছে। ফাইনালি ভোট যেহেতু হচ্ছেই, উৎসবের মতো করে হয়ে যাক। কোনো ধরনের হানাহানি-মারামরি না হোক। গণ্ডগোল-ফ্যাসাদ দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত। ভোটের দিন এগুলো যারা করার চেষ্টা করবে, তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন তাদের থেকে। যদিও এখন পর্যন্ত নির্বাচনি পরিবেশ ভালো আছে। এটা খুশির খবর। নতুন সরকার আমাদের নিরপদ রাখুক। দেশের মঙ্গল হোক, এটিই চাওয়া।
ভোটারদের প্রত্যাশা অনেক। তাঁরা সামগ্রিক নিরাপত্তা চান প্রার্থীদের কাছ থেকে। ঢাকা-১০ আসনের ভোটার প্রশান্ত ভৌমিক বলেন, আমরা সাধারণ নাগরিক। ভালোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারলে খুশি। আমাদের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিকসহ সব ধরনের নিরাপত্তা দরকার। যে-ই সরকারে যাক, প্রত্যাশা হচ্ছে—দেশের মানুষ যেন সামগ্রিকভাবে ভালো থাকে। আওয়ামী আমলে উৎসবের মতো ভোট হতো না। এবার হোক। এরপর যেন আর ওই পরিবেশ ফিরে না আসে। কেন্দ্র দখল না হোক। ভোটারদের ভয় দেখানো না হোক। কেন্দ্রে যেতে বাধা দেওয়া না হোক।
ঢাকা-১৫ আসনের ভোটার ইকরামুল হক বলেন, এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। কেউ ঝামেলা করতে গিয়ে পার না-ও পেতে পারে। কারণ, এবার ভোট করবে জনগণ। জনগণই ভোটের পরিবেশ ভালো রাখবে। কেউ শক্তি-ক্ষমতা দেখালে তা রুখে দেবে ভোটাররাই। আবার বিএনপি-জামায়াত মাঠে শক্তিশালী। আশা করা যায়, এবার ভালো ভোট দেখব।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা-১ আসনে প্রায় এক লাখের মতো হিন্দু ভোট। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন এ প্রতিবেদক। প্রায় সবাই নিরাপত্তাহীনতার কথা বলেছেন। তাঁরা সার্বিক নিরাপত্তা চান। তাঁদের একজন সুশান্ত দাস তিনি। বলেন, আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর থেকে ভয়ে থাকতে হয় সবসময়। ভোটের পর কী হবে, জানি না। তবে, আমরা নিরাপদে থাকতে চাই। রাষ্ট্রের কাছে নিরাপত্তা চাই। দেশটা আমার। এখানে আমার জন্ম। বেড়ে ওঠা। আওয়ামী লীগের মধ্যে যারা অন্যায় করেছেন, তাদের শাস্তি হোক। কিন্তু নিরাপরাধ সমর্থকদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়।
জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, এবার ইসি থাকবে সর্বোচ্চ কঠোর। ভোটের দিন কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে অবশ্যই কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে। আইশৃঙ্খলা বাহিনীকে সেভাবেই নির্দেশনা দেওয়া আছে। আমাদের আশা, ভোট হবে উৎসবমুখর পরিবেশে।

নিজস্ব প্রতিবেদক