বাতাসে ভাসছে লিচুর মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণ, বাম্পার ফলনের আশা
দিনাজপুরের গ্রামবাংলার ভোরে এখন অন্য রকম আবহ। লিচু বাগানগুলোতে চোখ রাখলেই ধরা পড়ছে সাদা ও হালকা হলুদ রঙের অসংখ্য মুকুল। বাতাসে ভেসে বেড়ানো লিচু ফুলের মিষ্টি ঘ্রাণ জানান দিচ্ছে- আরও একটি সম্ভাবনাময় মৌসুমের অপেক্ষায় উত্তরের এই জনপদ। লিচুর রাজ্য হিসেবে পরিচিত দিনাজপুরের বাগানগুলোতে মুকুলের প্রাচুর্য দেখে চাষিদের মুখে এখন আশার হাসি।
বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না এলে এবারও বাম্পার ফলনের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় জেলায় প্রতি বছরই লিচু চাষের পরিধি বাড়ছে। এখানকার লিচু দেশের চাহিদা মিটিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছর দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘বেদানা লিচু’ জিআই স্বীকৃতি পাওয়ায় এই অঞ্চলের লিচুর কদর ও মর্যাদা আরও বেড়েছে।
কৃষি দপ্তরের তথ্যমতে, গত মৌসুমে জেলায় চার হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে লিচু চাষ হলেও ফল গবেষণা কেন্দ্রের হিসাবে এই পরিমাণ ছিল প্রায় পাঁচ হাজার ৬০০ হেক্টর। গত বছর উৎপাদন ২৫ হাজার মেট্রিক টন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। মাঠের বর্তমান চিত্র বলছে, এবার ফলন আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, চাষিরা এখন গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে নির্দিষ্ট সময়ে সেচ, কীটনাশক ও বালাইনাশক প্রয়োগ করছেন তারা। মুকুল টিকিয়ে রাখতে নিয়মিত স্প্রে ও বাড়তি যত্ন নেওয়া হচ্ছে। দিনাজপুরে প্রধানত চায়না থ্রি, বেদানা, বোম্বাই, মাদ্রাজি, গোলাপী ও কাঁঠালী- এই ছয় জাতের লিচু সবচেয়ে বেশি চাষ হয়।
বিরল উপজেলার লিচুচাষি আব্দুল কাদির বলেন, মুকুল আসার আগে থেকেই আমাদের ব্যস্ততা শুরু হয়। এখন নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দিচ্ছি। মুকুল ভালো থাকলে ফলনও ভালো হবে। তিনি আরও বলেন, ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যে বাগানে আসতে শুরু করেছেন এবং অনেক বাগান আগাম বিক্রিও হয়ে যাচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর দিনাজপুরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. আফজাল হোসেন জানান, জেলার সব উপজেলায় কৃষি কর্মকর্তাদের বাগান মালিকদের পাশে থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পরামর্শ ও তদারকি চলছে যাতে লিচু চাষে চাষিরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন না হন।

মাসুদ রানা, দিনাজপুর (বীরগঞ্জ-খানসামা)