আধুনিক যুগেও ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ, টিকে আছে গ্রামীণ ঐতিহ্য
আধুনিক কৃষিযন্ত্রের দাপটে বদলে গেছে গ্রামবাংলার চিরচেনা কৃষিচিত্র। ট্রাক্টর ও পাওয়ার টিলারের সহজলভ্যতায় জমি চাষ এখন অনেক দ্রুত ও সহজ। তবে এই যান্ত্রিক যুগেও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কিছু এলাকায় এখনও টিকে আছে ঘোড়া দিয়ে হাল চাষের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী দৃশ্য। উপজেলার কুমারগাড়ীসহ বেশ কিছু গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠে দেখা মিলছে ঘোড়া দিয়ে জমি প্রস্তুত করার এই ব্যতিক্রমী চিত্র, যা পথচারী ও স্থানীয়দের নজর কাড়ছে।
কুমারগাড়ী গ্রামের কৃষক মোস্তা মিয়া জানান, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে জমি চাষ করতে খরচ অনেক বেশি পড়ে। তার জমির পরিমাণ কম হওয়ায় ঘোড়া দিয়ে চাষ করাটা সাশ্রয়ী। তিনি বলেন, ‘সময় একটু বেশি লাগলেও নিজের সামর্থ্যের মধ্যে ঘোড়া দিয়ে জমি চাষ করা যায়। এতে বাড়তি তেলের খরচ নেই।’
আরেক কৃষক খাসা মিয়া জানান, আগে গরু দিয়ে হাল চাষের প্রচলন ছিল ব্যাপক। কিন্তু বর্তমানে গরুর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং লালন-পালন ব্যয়বহুল হওয়ায় তিনি ঘোড়াকেই বেছে নিয়েছেন। তার মতে, ঘোড়া দিয়ে চাষ করলে জমিও বেশ ভালোভাবে প্রস্তুত হয়।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ জানান, বর্তমানে অধিকাংশ কৃষক আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। তবে প্রান্তিক ও ছোট কৃষকদের কাছে ঘোড়া দিয়ে হাল চাষ এখনও একটি কার্যকর বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে টিকে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কৃষকদের আধুনিক প্রযুক্তিতে উৎসাহিত করছি। পাশাপাশি যারা ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন, তাদেরও প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

মো. রতন মিয়া, রংপুর (পীরগঞ্জ-মিঠাপুকুর)