ছিনতাইকারীর ধাওয়ায় শিক্ষার্থী নিখোঁজ, ২ দিনেও সন্ধান মেলেনি
ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের পাশে বেড়াতে গিয়ে ফেরার পথে আনন্দ মোহন কলেজের দুই শিক্ষার্থী ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন। তাদের মধ্যে একজন পালিয়ে ফিরলেও আরেকজন নিখোঁজ রয়েছেন। ঘটনার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও গতকাল বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
নিখোঁজ ওই শিক্ষার্থী হলেন নুরুল্লাহ শাওন (২৫)। তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার শাহজাহান মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শাওন ও তার বন্ধু রিফাত নগরীর জয়নুল আবেদীন সংগ্রহশালার বিপরীত দিকে ব্রহ্মপুত্র নদের চরে ঘুরতে যান। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অন্ধকার নেমে এলে সাতজন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে টাকা দাবি করে। তাদের কাছে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় ছিনতাইকারীরা ক্ষিপ্ত হয়ে রিফাতকে চড় মারে এবং মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। শাওন প্রতিবাদ করেন। ছিনতাইকারীরা গাছের ডাল দিয়ে দুই বন্ধুকেই এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। জীবন বাঁচাতে রিফাত ও শাওন দুই দিকে দৌড় দেন।
রিফাতকে চারজন এবং শাওনকে তিনজন ছিনতাইকারী ধাওয়া করে। রিফাত কোনোমতে নদের পাড়ে পৌঁছে বালু শ্রমিকদের সহায়তায় প্রাণে বাঁচলেও শাওন নিখোঁজ হয়ে যান। বালু শ্রমিকরা ধাওয়াকারী এক ছিনতাইকারীকে ধরে পুলিশে সোপর্দ করে।
খবর পেয়ে বুধবার রাতেই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালায়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নদে অনুসন্ধান চালালেও শাওনের হদিস পায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের টিম লিডার তরুণ-উর-রশিদ বলেন, শাওন নদে ঝাঁপ দিয়েছেন নাকি অন্য দিকে দৌড়ে গেছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমরা দীর্ঘক্ষণ নদে তল্লাশি চালিয়েছি। কোনো সন্ধান না পাওয়ায় আপাতত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।
সহপাঠীকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আনন্দ মোহন কলেজের সামনে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও শাওনের পরিবার। মানববন্ধনে শাওনের মা শাহিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং ছেলেকে দ্রুত ফিরে পাওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে সংহতি জানিয়ে আনন্দ মোহন কলেজ ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তানজিল খান বলেন, আমরা দ্রুত ও অক্ষত অবস্থায় শাওনকে ফেরত চাই। একই সঙ্গে এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় জড়িত সকল ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল সাকিব বলেন, নিখোঁজ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে আটক ছিনতাইকারীর নাম প্রকাশ না করলেও এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তানভীর হোসাইন, ময়মনসিংহ (সদর-মুক্তাগাছা)