চুয়াডাঙ্গায় সংসদ সদস্যদের সঙ্গে জেলা প্রশাসনের পরিচিতি সভা
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল এবং চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন। সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য। দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী চুয়াডাঙ্গা গড়তে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঘুষ ও কমিশন বাণিজ্যের কোনো সুযোগ রাখা যাবে না। সব সরকারি দপ্তরকে জনবান্ধব ও দুর্নীতিমুক্ত হিসেবে গড়ে তুলতে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে।
সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল আমিন আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গা একটি কৃষিপ্রধান জেলা। কৃষকদের সারের সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যা দ্রুত সমাধানে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন।
চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, দুই আসনের জনপ্রতিনিধিরা সমন্বয়ের ভিত্তিতে জেলার উন্নয়নে কাজ করবেন। পেশাদারত্ব ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। তিনি মাদক ও চাঁদাবাজিমুক্ত জেলা গঠনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দেন।
উন্নয়নমূলক কাজ, বিশেষ করে রাস্তাঘাট নির্মাণে বরাদ্দ অনুযায়ী কাজ হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকির প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদক নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গে মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, অতীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে ইতিবাচক ফল পাওয়া গিয়েছিল। পুনরায় কার্যকর ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে মাদক নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও উপপরিচালক স্থানীয় সরকার শারমিন আক্তার, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা, দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উবায়দুর রহমান সাহেল, আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার, জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল আলম রাসেলসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

আব্দুল্লাহ হক, চুয়াডাঙ্গা (সদর ও আলমডাঙ্গা)