লক্ষ্মীপুরে ‘চোর’ ধরা নিয়ে পুলিশ-এলাকাবাসী সংঘর্ষ, দুই মামলা
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ‘চোর’ ধরাকে কেন্দ্র করে পুলিশ-এলাকাবাসীর সংঘর্ষে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এসময় রাস্তায় ইট, বাঁশ ও গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এতে সড়কের দু’পাশে শতশত যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়পুর সার্কেল) জামিলুল হক বলেন, অটোরিকশা চুরির ঘটনায় মালিককে আমরা মামলা করতে বলেছি। কিন্তু তারা মামলাতে অনিচ্ছুক। এতে পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এছাড়া পুলিশের ওপর হামলা ও আহতের ঘটনায় পৃথক মামলা হয়েছে। দুটি ঘটনায় পাঁচজন আটক রয়েছেন। ভোর রাতে দুটি ঘটনার এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। তবে আসামি কতজন তিনি তা জানাতে পারেননি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের হায়দর আলী বেপারী বাড়ির শাহ আলম অটোরিকশা রাস্তার ওপর রেখে ইফতার করতে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই অটোরিকশাটি চুরি হয়ে যায়। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে চারজন সন্দেহভাজনকে ধরে আনেন। অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও তারা ব্যাটারি অন্যত্র বিক্রি করে দিয়েছে বলে জানায়। তাদেরকে বাড়িতে নিয়ে মারধর করা হয়।
রাত সাড়ে ৮টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই চার ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ব্যাটারি না পাওয়া পর্যন্ত তাদেরকে ছাড়া হবে না বলে জানায় এলাকাবাসী। এ নিয়ে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে পুলিশ ও এলাকাবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় রায়পুর থানা-পুলিশের মোতালেব, শওকত, মঞ্জুর ও জাহিদসহ উভয়পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। পুলিশ সদস্যদেরকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে এলাকার নিরীহ নারী-পুরুষের ওপর পুলিশের হামলার অভিযোগ এনে লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর সড়কের আঞ্চলিক সড়কের রায়পুরের চৈতাইল্যা দিঘির পাড় এলাকায় অবরোধ করা হয়। এসময় সড়কে প্রতিবন্ধকতা ও অগ্নিসংযোগ করে ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখা হয়। এতে সড়কের দুই পাশে অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজট সৃষ্টি হয়ে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
অটোরিকশাটির চালক শাহ আলম বলেন, আমরা ব্যাটারি উদ্ধারের জন্য চোরদের আটক করে রাখি। পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যেতে চায়। তাদেরকে না দেওয়ায় পুলিশ আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমাদের অন্তত ১৫-১৬ জন আহত হয়েছে।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী বলেন, চারজন চোরকে আটকে মব করা হচ্ছে–৯৯৯ এ ফোন পেয়ে আমাদের মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে যায়। অনেক চেষ্টা করে যখন তাদেরকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, তখন পেছন থেকে এলাকাবাসী পুলিশকে ইটপাটকেল ছুঁড়তে থাকে। এতে এসআইসহ ৪ জন পুলিশ সদস্য আহত হন।

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর