অন্ধকারে সড়কে দাঁড়িয়ে থাকা লরিতে প্রাণ গেল যুবকের
লক্ষ্মীপুরে আঞ্চলিক মহাসড়কে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় শাহরিয়ার রাজু (২৮) নামে এক বিকাশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে পাশের জেলা চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরব এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে ইফতার শেষে লক্ষ্মীপুর ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যায়।
গতকাল শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার দালাল বাজার ইউনিয়নের সর্দার বাড়ি এলাকায় লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বন্ধুদের সবসময় মাতিয়ে রাখা রাজুর এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না। তিনি নিয়মিত রক্তদান দানসহ সামাজিক কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন।
নিহত রাজু সদর উপজেলার বাঙ্গাখাঁ ইউনিয়নের আদিলপুর গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। তিনি বিকাশের রায়পুর শাখায় চাকরি করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেলে রাজু ও তাঁর বন্ধুরা চাঁদপুরের চরভৈরব লঞ্চঘাট এলাকায় ইফতার করতে যায়। ইফতার শেষে ফেরার পথে ঘটনাস্থলে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরিতে এসে তার মোটরসাইকেলটি সজোরে ধাক্কা লাগে। এতে মোটরসাইকেলটি লরির নিচে ঢুকে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চালক রাজু মারা যায়। স্থানীয়রা জানান, সরকারি কাজে নিয়োজিত ওই লরিটি কোন ধরনের সতর্কবার্তা বা চিহ্ন ছাড়াই অন্ধকারে সড়কের ওপর লড়িটি দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।
নিহত রাজুর বন্ধু কাজী মোহাম্মদ শামীম বলেন, রাজু তার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে চাঁদপুরের চরভৈরবীতে গিয়ে নদীর পাড়ে ইফতার করে। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনায় আমার বন্ধু মারা গেছে। রাজু বিকাশের রায়পুর শাখায় চাকরি করতো। তার মরদেহ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
নিহতের আরেক বন্ধু মাসুদুর রহমান রাজু ফেসবুক পোস্টে জানান, জীবনের শেষ ইফতার করে গেলি বন্ধু। আর দেখা হলো না তোর সঙ্গে৷ আল্লাহ তোকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুক।
এ ব্যাপারে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। বিকল হয়ে যাওয়ায় লরিটি সড়কে দাঁড় করানো ছিল। বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে। নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্ত করাবে না বলে পরিবার জানিয়েছে।

আবুল কালাম আজাদ, লক্ষ্মীপুর